ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনারা দেশ ধ্বংস করবেন আর বিরোধী দল আঙুল চুষবে: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশ ধ্বংসের যেকোনো অপচেষ্টা কিংবা সর্বপর্যায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিরোধী দল কখনোই নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। সম্প্রতি ফেনীর মহিপালে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে আয়োজিত ওই জনসমাবেশে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, গত কয়েক মাসেও কোনো উল্লেখযোগ্য বিচারকার্যের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসীর সামনে আসেনি। কেয়ারটেকার সরকারের আমলের সামান্য কিছু কার্যক্রম ছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন কাটছে না, যা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণ সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষেও রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে এবং জনগণের সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসভঙ্গ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, জনগণের এই অধিকার মেনে নেওয়া সরকারের কোনো কৃপা নয়, বরং এটি তাদের পূর্বপ্রদত্ত ওয়াদারই বাস্তবায়ন।

নতুন করে দেশে ফ্যাসিবাদের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনো বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ যদি পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের স্বপ্ন দেখেন, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। এ সময় দেশের প্রতি নিজেদের অবিচল ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে, তাদের কোনো বিদেশি প্রভু বা ভিন্ন দেশে আশ্রয়ের ঠিকানা নেই। নানা নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখেও তারা দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি এবং দেশের মাটি কামড়ে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে যুবসমাজকে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের জীবনের প্রাপ্তিটুকু দেশের নতুন প্রজন্মের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চান। যুবকদের একটি সুন্দর ও ভীতিহীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য, যেখানে মানুষ একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না। ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবদুর রহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

জনপ্রিয়

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

আপনারা দেশ ধ্বংস করবেন আর বিরোধী দল আঙুল চুষবে: শফিকুর রহমান

প্রকাশিত ০৬:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশ ধ্বংসের যেকোনো অপচেষ্টা কিংবা সর্বপর্যায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিরোধী দল কখনোই নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। সম্প্রতি ফেনীর মহিপালে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে আয়োজিত ওই জনসমাবেশে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, গত কয়েক মাসেও কোনো উল্লেখযোগ্য বিচারকার্যের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসীর সামনে আসেনি। কেয়ারটেকার সরকারের আমলের সামান্য কিছু কার্যক্রম ছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন কাটছে না, যা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণ সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষেও রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে এবং জনগণের সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসভঙ্গ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, জনগণের এই অধিকার মেনে নেওয়া সরকারের কোনো কৃপা নয়, বরং এটি তাদের পূর্বপ্রদত্ত ওয়াদারই বাস্তবায়ন।

নতুন করে দেশে ফ্যাসিবাদের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনো বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ যদি পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের স্বপ্ন দেখেন, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। এ সময় দেশের প্রতি নিজেদের অবিচল ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে, তাদের কোনো বিদেশি প্রভু বা ভিন্ন দেশে আশ্রয়ের ঠিকানা নেই। নানা নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখেও তারা দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি এবং দেশের মাটি কামড়ে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে যুবসমাজকে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের জীবনের প্রাপ্তিটুকু দেশের নতুন প্রজন্মের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চান। যুবকদের একটি সুন্দর ও ভীতিহীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য, যেখানে মানুষ একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না। ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবদুর রহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।