রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ কেজি ওজনের একটি বড় সোনার চালান জব্দ করেছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের এক কর্মীর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বেল্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মীকেও আটক করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮ নামের ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর এই অভিযান চালানো হয়। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তা এবং প্রিভেন্টিভ দল উড়োজাহাজটির ভেতরে সুনির্দিষ্ট তল্লাশি পরিচালনা করে। বিমানটির মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দলের সদস্যরা কাজ শেষে নিচে নেমে আসার সময় তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতায় তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে সন্দেহভাজন এক কর্মীর শারীরিক গড়নে অসামঞ্জস্য দেখতে পান কর্মকর্তারা।
অভিযানে আটক ব্যক্তির নাম মো যিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তল্লাশির সময় তার পরিহিত বেল্টের ভেতরে কালো স্কচটেপ দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে মোড়ানো সন্দেহজনক কিছু বস্তু দেখতে পান উপস্থিত কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে উদ্ধার করা বস্তুগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেগুলো খোলা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার প্রতিটি বারের ওজন ছিল প্রায় ১১৬ গ্রাম করে।
উদ্ধারকৃত সোনার মোট ওজন প্রায় ১৩ দশমিক ৯২ কেজি এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিমানটির মাধ্যমে এই সোনাগুলো দেশের ভেতরে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এভসেক, কাস্টমস গোয়েন্দা এবং বিভিন্ন সং সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় এই চোরাচালান ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। জব্দ করা এই বহুমূল্যবান সোনার চালানটি পরবর্তীতে বিমানবন্দর কাস্টমসের নির্ধারিত গুদামে নিরাপদ হেফাজতে জমা করা হয়েছে।




































