ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

১১ দলের লংমার্চ ঘিরে সড়কের দুপাশে নেতাকর্মীদের ঢল

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চ ঘিরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং তা নির্ধারিত বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। রাজধানী ছাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে জোটের স্থানীয় কর্মীরা লংমার্চের গাড়ি বহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসেন এবং নানা স্লোগানে পুরো পরিবেশ মুখরিত করে তোলেন।

যাত্রা শুরুর পর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লংমার্চের প্রথম পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। এরপর নির্ধারিত বিরতি ও সময় মেনে দুপুর ও বিকালের দিকে একে একে কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম এবং ফেনীতে বড় ধরনের পথসভা সম্পন্ন করে ১১ দলীয় জোটের নেতারা। ফেনীতে পথসভা শেষ করার পর লংমার্চের গাড়িবহর পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং পথিমধ্যে মিরসরাইয়ে আরেকটি পথসভা করার পরিকল্পনা থাকে। সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে একটি বিশাল সমাপনী জনসভার মাধ্যমে এই লংমার্চের সমাপ্তি ঘটে।

এই লংমার্চে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের স্বস্তি দিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় লংমার্চে অংশ নেওয়া যাত্রীদের মাঝে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন পথসভা সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গরমে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিরাপদ সুপেয় পানি এবং ঠাণ্ডা শরবত সরবরাহ করা হয়।

১১ দলীয় ঐক্যের এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া লংমার্চের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় আরও অংশ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটভুক্ত দলগুলোর অন্যান্য কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারাও এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এই লংমার্চ আয়োজনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ১১ দফা জোটের ঘোষিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন করা। এছাড়া দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দ্রুত নিরসন করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা এবং সর্বস্তরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধন এবং প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের প্রক্রিয়া বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

জনপ্রিয়

৬ মাসে বিএনপি চাঁদাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১১ দলের লংমার্চ ঘিরে সড়কের দুপাশে নেতাকর্মীদের ঢল

প্রকাশিত ০৭:০০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চ ঘিরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং তা নির্ধারিত বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। রাজধানী ছাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে জোটের স্থানীয় কর্মীরা লংমার্চের গাড়ি বহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসেন এবং নানা স্লোগানে পুরো পরিবেশ মুখরিত করে তোলেন।

যাত্রা শুরুর পর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লংমার্চের প্রথম পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। এরপর নির্ধারিত বিরতি ও সময় মেনে দুপুর ও বিকালের দিকে একে একে কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম এবং ফেনীতে বড় ধরনের পথসভা সম্পন্ন করে ১১ দলীয় জোটের নেতারা। ফেনীতে পথসভা শেষ করার পর লংমার্চের গাড়িবহর পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং পথিমধ্যে মিরসরাইয়ে আরেকটি পথসভা করার পরিকল্পনা থাকে। সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে একটি বিশাল সমাপনী জনসভার মাধ্যমে এই লংমার্চের সমাপ্তি ঘটে।

এই লংমার্চে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের স্বস্তি দিতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় লংমার্চে অংশ নেওয়া যাত্রীদের মাঝে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন পথসভা সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গরমে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিরাপদ সুপেয় পানি এবং ঠাণ্ডা শরবত সরবরাহ করা হয়।

১১ দলীয় ঐক্যের এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া লংমার্চের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় আরও অংশ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটভুক্ত দলগুলোর অন্যান্য কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারাও এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এই লংমার্চ আয়োজনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ১১ দফা জোটের ঘোষিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন করা। এছাড়া দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দ্রুত নিরসন করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা এবং সর্বস্তরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধন এবং প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের প্রক্রিয়া বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন জোটের নেতারা।