ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশি অস্ত্র-ককটেলসহ যুবক আটক, গণপিটুনির পর পুলিশে দিল জনতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে অস্ত্র ও ককটেলসহ এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। সম্প্রতি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সিরাজনগরের বেলতলা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত যুবকের নাম রকি হোসেন (২২), যিনি ওই এলাকারই মৃত বজলুর রহমানের সন্তান বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের উৎপাত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার রাতে একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। মিছিল চলাকালীন খবর আসে যে সিরাজনগরের একটি স্থানীয় বাঁশবাগানে একদল মাদক কারবারি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সংবাদ পাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদী মানুষ ওই বাঁশবাগানের দিকে এগিয়ে যান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে রকি হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী মিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে ওই যুবকেরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাহসী জনতা তাদের ধাওয়া করতে শুরু করে। সংঘবদ্ধ জনতার ধাওয়ায় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত রকি হোসেনকে অস্ত্রসহ ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। এ সময় ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ওই যুবক গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দৌলতপুর থানা-পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় রকিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ধারালো রামদা এবং একটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে। স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান জানান যে মাদকবিরোধী আন্দোলনের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ এক যুবককে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ার কারণে বর্তমানে তাকে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জনপ্রিয়

সাভারে পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বিদেশি অস্ত্র-ককটেলসহ যুবক আটক, গণপিটুনির পর পুলিশে দিল জনতা

প্রকাশিত ০৯:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে অস্ত্র ও ককটেলসহ এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। সম্প্রতি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সিরাজনগরের বেলতলা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত যুবকের নাম রকি হোসেন (২২), যিনি ওই এলাকারই মৃত বজলুর রহমানের সন্তান বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের উৎপাত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার রাতে একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। মিছিল চলাকালীন খবর আসে যে সিরাজনগরের একটি স্থানীয় বাঁশবাগানে একদল মাদক কারবারি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সংবাদ পাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদী মানুষ ওই বাঁশবাগানের দিকে এগিয়ে যান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে রকি হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী মিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে ওই যুবকেরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাহসী জনতা তাদের ধাওয়া করতে শুরু করে। সংঘবদ্ধ জনতার ধাওয়ায় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত রকি হোসেনকে অস্ত্রসহ ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। এ সময় ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ওই যুবক গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দৌলতপুর থানা-পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় রকিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ধারালো রামদা এবং একটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে। স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান জানান যে মাদকবিরোধী আন্দোলনের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ এক যুবককে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ার কারণে বর্তমানে তাকে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।