রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে অপহৃত সাত বছর বয়সি এক শিশুকে শরীয়তপুর জেলা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুথী আক্তার নামের বাইশ বছর বয়সি এক তরুণীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটির নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে শিশুটি বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হলে থানা পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও তার আশেপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। সংগৃহীত ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায় যে, কালো পোশাক পরিহিতা এক নারী কৌশলে ওই শিশুটির হাত ধরে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহার করে অভিযুক্ত নারীর অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত যুথী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয় এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর সুস্থ অবস্থায় তার বাবা-মায়ের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এই অভিযان ও উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, গ্রেফতারকৃত নারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। অপরাধের এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।































