ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে শিল্পী বেগম নামের এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সিজারিয়ান অপারেশন চলাকালীন ওই নারীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর পরই নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে মাঠে নামে।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন এই আদালত সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটির বিভিন্ন নথিপত্র ও কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রসূতির মৃত্যুর পেছনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন এবং এর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেন।
এছাড়াও, স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা ও নিয়মের বরখেলাপের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ক্লিনিকের মালিককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মারাত্মক ভুল ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
চিকিৎসায় অবহেলার কারণে প্রসূতি মৃত্যুর এই দুঃখজনক ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের জীবন এভাবে অকালে ঝরে না যায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না এবং এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।































