রাজধানীতে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও এর আর্থিক লেনদেন চক্রের সঙ্গে জড়িত সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। সম্প্রতি ডিএমপির ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অবৈধ অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করার পরই এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, সাইবার মনিটরিংয়ের সময় কয়েকটি সন্দেহজনক ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শনাক্ত করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুয়ার অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত ডিজিটাল তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ভিত্তিতে অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দলটি প্রথমে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা সূত্রের সূত্র ধরে এই চক্রের মূল হোতা সাগর শিকদারকে কালকিনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই পুরো অভিযানে চক্রের মোট সাতজন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন অমল কীর্তনিয়া অভি, মিথুন সরকার, সুনীল মৃধা, কাজী উসরাত আঞ্জুমান মেঘা, মারুফা এবং মো. রাকিবুল হাসান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের পাকড়াও করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করে।
অভিযান পরিচালনাকারী দল অপরাধীদের কাছ থেকে নগদ লেনদেন ও অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত প্রায় চারশ চৌরাশিটি এমএফএস সিমকার্ড জব্দ করেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ছিয়াচল্লিশটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, আটটি ল্যাপটপ, সাতাশটি ব্যাংক কার্ড, জুয়া সংক্রান্ত হিসাবের তিনটি ডায়েরি এবং দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে এবং অর্থ পাচার বা লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে এই সিম ও ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা হতো।
উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আসামিদের উপযুক্ত আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে ডিবি পুলিশের সাইবার বিভাগ এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।




































