সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। তাদের মতে, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে এই সিদ্ধান্তের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অবিলম্বে তা সংশোধনের জোর দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন যে, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধা, যোগ্যতা এবং একাডেমিক দক্ষতার মূল মূল্যায়ন ঘটে লিখিত পরীক্ষায়। পক্ষান্তরে, ভাইভায় কেবল প্রার্থীর উপস্থাপনা ও বাহ্যিক প্রকাশভঙ্গি যাচাই করা হয়, যা লিখিত পরীক্ষার সমকক্ষ হতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর বরাদ্দ থাকলে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর এবং দলীয় বিবেচনায় প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়, যা কোনোভাবেই একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে কাম্য নয়।
অনুষ্ঠানে জাকসুর তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম লিখন বলেন যে, ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সরকার প্রকারান্তরে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। সম্প্রতি সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল কোটাব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কেবল মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান নিয়মে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে নতুনভাবে বৈষম্য ও অনিয়মের পথ তৈরি করা হচ্ছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাকসুর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গ্রেডের পরিবর্তনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান যে, আগে যেখানে কিছু গ্রেডে ভাইভার নম্বর কম ছিল, তা বাড়িয়ে এখন অনেক বেশি করা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক নম্বরের কারণে প্রার্থীরা মেধার বদলে রাজনৈতিক সুপারিশ ও দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে বাধ্য হবেন। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা বহাল না করলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।



































