ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ৫ ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওমান উপসাগর এবং খার্গ দ্বীপের নিকটবর্তী জলসীমায় ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই হামলায় নেতৃত্ব দেয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের তরফ থেকে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার চেষ্টার জবাব হিসেবে এই ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে নৌযানে আক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই এই কড়া সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়া তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর মধ্যে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আঘাত হানার পূর্বে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্রু ও কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পূর্বঘোষিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে এম/টি রিয়েস্কো নামের একটি ট্যাংকারকে ওমান উপসাগরে পুরোপুরি ডুবে যেতে দেখা যায়। ওয়াশিংটন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক জাহাজে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো আগ্রাসী প্রচেষ্টার শক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং তেহরানকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

মার্কিন এই আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে জোরালো পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে প্রায় কুড়িটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও জর্ডান সরকারের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে, তবুও হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধজাহাজেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

দুই দেশের এই সামরিক সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় একশ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এমতাবস্থায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য বন্দরগুলোতে অবস্থানরত তেল ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

জনপ্রিয়

বাঁধন ও নুসরাত ফারিয়াকে নিয়ে ‘লজ্জা’

ইরানের ৫ ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা আঘাত

প্রকাশিত ১২:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওমান উপসাগর এবং খার্গ দ্বীপের নিকটবর্তী জলসীমায় ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই হামলায় নেতৃত্ব দেয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের তরফ থেকে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার চেষ্টার জবাব হিসেবে এই ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে নৌযানে আক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই এই কড়া সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়া তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর মধ্যে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আঘাত হানার পূর্বে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্রু ও কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পূর্বঘোষিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে এম/টি রিয়েস্কো নামের একটি ট্যাংকারকে ওমান উপসাগরে পুরোপুরি ডুবে যেতে দেখা যায়। ওয়াশিংটন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক জাহাজে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো আগ্রাসী প্রচেষ্টার শক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং তেহরানকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

মার্কিন এই আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে জোরালো পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে প্রায় কুড়িটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও জর্ডান সরকারের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে, তবুও হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধজাহাজেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

দুই দেশের এই সামরিক সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় একশ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এমতাবস্থায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য বন্দরগুলোতে অবস্থানরত তেল ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।