ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে স্বামী, মৃত ঘোষণার পর পালানোর চেষ্টা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই নিহতের স্বামী রহস্যজনকভাবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামীর নাম মোরসেলিম আকাশ সিয়াম, যিনি স্থানীয় হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে তার স্ত্রীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শাহিনাকে মৃত বলে নিশ্চিত করেন। চিকিৎসকের মুখ থেকে মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই সিয়াম অত্যন্ত সন্দেহজনক আচরণ শুরু করেন এবং দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।

নিহত তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী সিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন যে, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই তার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে, ঘটনার দিনও শাহিনাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল এবং মূলত সিয়ামই তাকে হত্যা করে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি এঁটেছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানিয়েছেন যে, ওই নারী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গিয়েছিলেন এবং তার গলার অংশে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত সিয়াম পালিয়ে নিজের এলাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করা সিয়ামকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারেন। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্য আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহতের পরিবার ও অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

জনপ্রিয়

এক্সপ্রেসওয়েতে ২০ বাইকারের মোটরসাইকেল রেস, দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু

মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে স্বামী, মৃত ঘোষণার পর পালানোর চেষ্টা

প্রকাশিত ০৯:১৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই নিহতের স্বামী রহস্যজনকভাবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামীর নাম মোরসেলিম আকাশ সিয়াম, যিনি স্থানীয় হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে তার স্ত্রীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শাহিনাকে মৃত বলে নিশ্চিত করেন। চিকিৎসকের মুখ থেকে মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই সিয়াম অত্যন্ত সন্দেহজনক আচরণ শুরু করেন এবং দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।

নিহত তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী সিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন যে, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই তার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে, ঘটনার দিনও শাহিনাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল এবং মূলত সিয়ামই তাকে হত্যা করে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি এঁটেছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানিয়েছেন যে, ওই নারী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গিয়েছিলেন এবং তার গলার অংশে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত সিয়াম পালিয়ে নিজের এলাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করা সিয়ামকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারেন। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্য আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহতের পরিবার ও অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।