মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল প্রতিযোগিতা চলাকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক তরুণ বাইকার নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন বাচামারা এলাকার ঢাকাগামী লেনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাকিবুল হাসান (২০) মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার তরিকুল ইসলামের সন্তান বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত গতির কারণে মুহূর্তেই একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মানিকগঞ্জ থেকে নিজ বন্ধুদের নিয়ে প্রায় ১১টি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় আসেন সাকিবুল। পরবর্তীতে সেখানে স্থানীয় আরও ৯ জন বাইকার তাদের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২০ জন মিলে একটি বড় দল গঠন করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভাঙ্গা থেকে পদ্মাসেতু পর্যন্ত মহাসড়কে তারা এই বিপজ্জনক মোটরসাইকেল রেস বা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হওয়ার পর তারা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণভাবে অতিদ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তরুণ বাইকার সাকিবুলের দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এর ফলে তার বাইকটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এদিকে এই মারাত্মক দুর্ঘটনার পর নিহতের সঙ্গে থাকা অন্য বাইকার বন্ধুরা কোনো রকম মানবিক সহায়তা না করে বরং রক্তাক্ত মরদেহ ফেলেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছে যে এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বেপরোয়া বাইকারদের দমনে নজরদারি বাড়ানো হবে।

































