ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে? Logo আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ Logo লিফট রেখে সিঁড়ি বেয়ে ছয়তলায় উঠে বৈঠকে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo পদায়নে ‘ঘুস’ বাণিজ্য-১১ হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে Logo দিল্লিতে কিশোর কুমারের গান গাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Logo এআই-এর কারণে ভবিষ্যতে মানবজাতির ধ্বংসের প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ Logo সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের মাশরাফি বহিষ্কার Logo জাবিতে প্রতিদিন থাকবে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং, জানালো প্রশাসন Logo কুয়ালালামপুরে মেগা অভিযানে ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক Logo আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট

এটিএমে পড়ে থাকা ১৯০০ ক্রোনা নিয়ে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা

সুইডেনে এটিএমে পড়ে থাকা সামান্য কিছু অর্থ আত্মসাৎ করার দায়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে বড় অঙ্কের আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে স্টকহোমের উত্তরাঞ্চলের উপ্পলান্দস ভ্যেসবির একটি এটিএম বুথে এই অদ্ভুত ও শিক্ষণীয় ঘটনাটি ঘটে। বুথে অন্য এক নারীর ফেলে যাওয়া অর্থ নিজের ব্যাগে ভরে বাড়ি ফেরায় ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির জীবনে এই আইনি বিপত্তি নেমে আসে। আইনের সঠিক জ্ঞান না থাকার অজুহাত দিয়েও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে এই বিশাল শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার দিন এক নারী ওই এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লেনদেন শেষ না করেই তিনি চলে যান। ওই নারী ভেবেছিলেন যে তার লেনদেনটি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে টাকাগুলো বুথ থেকে বেরিয়ে এসেছিল। এরপর ওই বয়স্ক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে একই এটিএমে টাকা তুলতে আসেন এবং ক্যাশ ডিসপেন্সারে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা ১ হাজার ৯০০ ক্রোনা দেখতে পান। চারপাশের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে তিনি লোভ সামলাতে পারেননি এবং ওই অর্থ নিজের দখলে নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেন।

প্রাথমিক তদন্তের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তিনি এটি ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। তিনি আদালতের কাছে সাফাই গেয়ে জানান যে অন্যের অর্থ নিজের কাছে রাখা যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। এমনকি কুড়িয়ে পাওয়া ওই অর্থ পুলিশের কাছে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়ার কথা তার মাথায় আসেনি বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তার এই দাবি শেষ পর্যন্ত বিচারকদের মন গলাতে পারেনি এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করে।

পুলিশ ও আদালত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে পায় যে ওই ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভিডিও ফুটেজে তার আচরণ দেখে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে সচেতনভাবেই টাকাগুলো নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং আসল মালিককে খোঁজার সামান্যতম চেষ্টাও করেননি। আদালত তাকে অন্যের সম্পদ বেআইনিভাবে কুক্ষিগত করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে কঠোর রায় ঘোষণা করে। এর ফলে তাকে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে কেবল জরিমানা করেই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি, বরং ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে তার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তিকে ওই নারীর ১ হাজার ৯০০ ক্রোনার মূল தொকা এবং এর ওপর প্রযোজ্য সুদ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। সবমিলিয়ে, এটিএমে পড়ে থাকা সামান্য ১৯০০ ক্রোনা নিজের পকেটে তোলার খেসারত হিসেবে তাকে এখন মূল অর্থের প্রায় সাতাশ গুণেরও বেশি জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে আইন সবার জন্যই সমান এবং না জানার ভান করে অপরাধ থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জনপ্রিয়

গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

এটিএমে পড়ে থাকা ১৯০০ ক্রোনা নিয়ে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা

প্রকাশিত ০৩:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুইডেনে এটিএমে পড়ে থাকা সামান্য কিছু অর্থ আত্মসাৎ করার দায়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে বড় অঙ্কের আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে স্টকহোমের উত্তরাঞ্চলের উপ্পলান্দস ভ্যেসবির একটি এটিএম বুথে এই অদ্ভুত ও শিক্ষণীয় ঘটনাটি ঘটে। বুথে অন্য এক নারীর ফেলে যাওয়া অর্থ নিজের ব্যাগে ভরে বাড়ি ফেরায় ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির জীবনে এই আইনি বিপত্তি নেমে আসে। আইনের সঠিক জ্ঞান না থাকার অজুহাত দিয়েও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে এই বিশাল শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার দিন এক নারী ওই এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লেনদেন শেষ না করেই তিনি চলে যান। ওই নারী ভেবেছিলেন যে তার লেনদেনটি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে টাকাগুলো বুথ থেকে বেরিয়ে এসেছিল। এরপর ওই বয়স্ক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে একই এটিএমে টাকা তুলতে আসেন এবং ক্যাশ ডিসপেন্সারে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা ১ হাজার ৯০০ ক্রোনা দেখতে পান। চারপাশের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে তিনি লোভ সামলাতে পারেননি এবং ওই অর্থ নিজের দখলে নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেন।

প্রাথমিক তদন্তের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তিনি এটি ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। তিনি আদালতের কাছে সাফাই গেয়ে জানান যে অন্যের অর্থ নিজের কাছে রাখা যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। এমনকি কুড়িয়ে পাওয়া ওই অর্থ পুলিশের কাছে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়ার কথা তার মাথায় আসেনি বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তার এই দাবি শেষ পর্যন্ত বিচারকদের মন গলাতে পারেনি এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করে।

পুলিশ ও আদালত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে পায় যে ওই ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভিডিও ফুটেজে তার আচরণ দেখে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে সচেতনভাবেই টাকাগুলো নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং আসল মালিককে খোঁজার সামান্যতম চেষ্টাও করেননি। আদালত তাকে অন্যের সম্পদ বেআইনিভাবে কুক্ষিগত করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে কঠোর রায় ঘোষণা করে। এর ফলে তাকে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে কেবল জরিমানা করেই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি, বরং ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে তার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তিকে ওই নারীর ১ হাজার ৯০০ ক্রোনার মূল தொকা এবং এর ওপর প্রযোজ্য সুদ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। সবমিলিয়ে, এটিএমে পড়ে থাকা সামান্য ১৯০০ ক্রোনা নিজের পকেটে তোলার খেসারত হিসেবে তাকে এখন মূল অর্থের প্রায় সাতাশ গুণেরও বেশি জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে আইন সবার জন্যই সমান এবং না জানার ভান করে অপরাধ থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।