ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo মোদী-শি জিনপিং বৈঠক: সীমান্ত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্ব Logo ইয়েমেনে অস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের চেষ্টা Logo বিনা টিকিটে ভ্রমণের অনুশোচনা, রেলকে ২৫ হাজার টাকা দিলেন শিক্ষিকা Logo শচিনের আরও একটি বিশ্বরেকর্ড হাতছাড়া, ইতিহাস গড়লেন রুট Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ১০ জন ভারতে উদ্ধার, নিখোঁজ ১ Logo জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ Logo ব্যাগ পেয়ে টানাটানি করছিল শিশুটি, হঠাৎ দেখলো ৪ টুকরো মরদেহ Logo আমিশার বাড়িতে ৫ লাখ রুপির গয়না চুরি, গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ

দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা এবং পাঠদানে অবহেলা রোধ করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লাস শেষ করে দেওয়া হয় অথবা অনেক সময় ক্লাসে কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা দেওয়া হয় না। এই অনিয়ম দূর করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন এই উদ্যোগের আওতায় মাউশির সহকারী পরিচালকেরা ডিএমএস নামক একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। কোন শিক্ষক ক্লাসে কেমন পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো মনযোগ দিচ্ছে কি না, তা এই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে এই ডিজিটাল তদারকি প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পিডিএসে হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ অনেক বেশি দ্রুত ও সুসংহত হবে।

শ্রেণিকক্ষের পাঠদান মনিটরিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাঠ্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘মাস্টার ট্রেইনার পুল’ গঠন করা হয়েছে এবং ‘টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে আইসিটি প্রকল্পের আওতায় দেশের তিন লাখেরও বেশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে নতুন নতুন ক্যাটাগরিতে পদক ও সম্মাননা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ টেলিভিশনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর প্রাথমিক খসড়া কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনাগুলো মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সকল উইংয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতির প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফোকাল পার্সন ও মাউশির উপপরিচালক মো. শওকত হোসেন মোল্ল্যা উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিছু স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হলেও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল চালুর মতো কারিগরি বিষয়গুলোর কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ

প্রকাশিত ০৮:৩১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা এবং পাঠদানে অবহেলা রোধ করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লাস শেষ করে দেওয়া হয় অথবা অনেক সময় ক্লাসে কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা দেওয়া হয় না। এই অনিয়ম দূর করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন এই উদ্যোগের আওতায় মাউশির সহকারী পরিচালকেরা ডিএমএস নামক একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। কোন শিক্ষক ক্লাসে কেমন পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো মনযোগ দিচ্ছে কি না, তা এই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে এই ডিজিটাল তদারকি প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পিডিএসে হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ অনেক বেশি দ্রুত ও সুসংহত হবে।

শ্রেণিকক্ষের পাঠদান মনিটরিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাঠ্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘মাস্টার ট্রেইনার পুল’ গঠন করা হয়েছে এবং ‘টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে আইসিটি প্রকল্পের আওতায় দেশের তিন লাখেরও বেশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে নতুন নতুন ক্যাটাগরিতে পদক ও সম্মাননা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ টেলিভিশনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর প্রাথমিক খসড়া কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনাগুলো মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সকল উইংয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতির প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফোকাল পার্সন ও মাউশির উপপরিচালক মো. শওকত হোসেন মোল্ল্যা উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিছু স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হলেও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল চালুর মতো কারিগরি বিষয়গুলোর কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।