ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনে সম্প্রতি রুশ ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং ইউরোপ মহাদেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে চলমান সংঘাতের মাঝেই এই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, বরিস জনসন এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা খাতের ওই শীর্ষ কর্মকর্তারা পূর্বনির্ধারিত একটি কূটনৈতিক ও পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ইউক্রেনে অবস্থান করছিলেন। পোল্যান্ড সীমান্ত অতিক্রম করে তারা যখন উক্ত রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান, ঠিক তখনই সেখানে আকস্মিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। রুশ বাহিনীর পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত ড্রোনটি স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েন।
তবে সৌভাগ্যবশত এই আকস্মিক ও মারাত্মক হামলায় বরিস জনসন কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তা কর্মকর্তা সরাসরি হতাহত হননি। দ্রুততার সঙ্গে তাদের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় তারা অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান। ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের এত কাছাকাছি অঞ্চলে বিদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও এমন হামলা রুশ বাহিনীর আগ্রাসী অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনার পর ইউক্রেনে সফররত বিদেশি ভিআইপিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। চলমান এই যুদ্ধের তীব্রতা যে কেবল সাধারণ ইউক্রেনীয় নাগরিকদের জীবনকেই বিপন্ন করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
































