কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় চুরির সন্দেহে মো. ফয়সাল (২৬) নামের এক যুবককে অমানবিক নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফয়সালকে প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে তার পিঠের ওপর ভারী ইট চাপিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে পূর্ব ফকিরাঘোনার বাসিন্দা কেফায়ত উল্লাহর বাড়িতে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে সকালের দিকে তাকে প্রকাশ্যে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এই পৈশাচিক নির্যাতনের একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী আকবরের দাবি অনুযায়ী, নিহত ফয়সাল একজন পেশাদার চোর ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ ছিল। তবে তিনি আরও স্বীকার করেন যে, চুরির অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে নির্যাতন চালিয়ে কাউকে হত্যা করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, নিহত যুবকের বাবা বাদশাহ মিয়া এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান যে তার ছেলে একজন সাধারণ দিনমজুর ছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ও পরবর্তীতে হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন যে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে রিফাত মুহাম্মদ ত্বকি নামের এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



































