পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র জাপানে বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি উপাত্ত অনুযায়ী, এই প্রথমবার শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা এক লাখের সীমা অতিক্রম করেছে। দীর্ঘায়ু এবং উন্নত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুবাদে জাপানি সমাজে বয়স্কদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে দীর্ঘজীবী জনসংখ্যার দেশ হিসেবে জাপানের এই অবস্থান বেশ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানটি জাপানের জনমিতি নিয়ে নতুন ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। জাপানি সমাজে এই বয়স্ক নাগরিকরা দেশের দীর্ঘকালীন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সাক্ষী হয়ে বেঁচে রয়েছেন। স্বাস্থ্যখাতের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার ফলেই দেশটির নাগরিকদের গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বিশাল সংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি দেশটির নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের জন্য নাগরিকদের দীর্ঘায়ু অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও এর পাশাপাশি বয়স্কদের সঠিক যত্ন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ক্রমবর্ধমান এই শতবর্ষী জনগোষ্ঠীর কারণে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ দিন দিন আরও বাড়ছে। কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায়, প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানা ধরনের সামাজিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানে বয়স্ক মানুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি এবং তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দেশটির এই জনমিতিক পরিবর্তন কেবল জাপান নিজেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রবীণ কল্যাণ নীতিমালার ক্ষেত্রে একটি বড় গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায়, দেশটির সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, জাপানের এই নতুন পরিসংখ্যান প্রবীণ সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ও প্রস্তুতিমূলক বার্তা বহন করছে।

































