দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সাম্প্রতিক সভায় বড় অংকের বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারী নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘ আলোচনার পর মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বিভিন্ন খাতের উন্নয়নমূলক কাজের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত আর্থিক কাঠামো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, এই বিশাল ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসবে বৈদেশিক সহায়তা বা প্রকল্প ঋণ হিসেবে, যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার অধিক। অন্যদিকে, সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি জোগান দেওয়া হবে এবং বাকি অংশ সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হবে।
অনুমোদিত ১২টি উন্নয়ন উদ্যোগের মধ্যে সাতটি নতুন প্রকল্প এবং বাকি পাঁচটি হলো পূর্বের চলমান প্রকল্পের সংশোধিত রূপ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন খাত, বিশেষ করে সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যানজটমুক্ত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে একাধিক মেট্রোরেল বা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক প্রশস্ত ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ খাতের পাশাপাশি রেলপথের উন্নয়ন, সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং শ্রমিকদের কল্যাণেও বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এই সভায়। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুকরণ এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ সংক্রান্ত সংশোধিত প্রকল্প দুটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বিশেষ প্রকল্পও অনুমোদন লাভ করেছে।
প্রধান প্রকল্পগুলোর অনুমোদনের পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রায় ১৫টি ছোট ও মাঝারি ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়টিও একনেক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছিল, যা সভায় কেবল অবগতির জন্য পেশ করা হয়। এসবের মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ, পরিবেশ রক্ষা ও পুনর্বনায়ন, গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।





































