ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-ভিডিও ভাইরাল, বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন Logo ‘এআই আমাদের মেরে ফেলবে’, ভয়ে চাকরি ছাড়লেন গুগলের দুই গবেষক Logo ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা? Logo সমুদ্রে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি জাহাজের সংঘর্ষ Logo আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন হামেস রদ্রিগেজ Logo বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা Logo ভারতের হাতে সুইচ, যে কোনো সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে আদানি: রিজভী Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে Logo ব্যুরো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৯০ হাজার টাকা Logo শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে

বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা

দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামে বিক্রির পর অবশেষে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদী ও সাগরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার সুফল মিলছে বাজারে। বরিশাল অঞ্চলের পাইকারি ও খুচরা মাছের বাজারগুলোতে রূপালি ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় মোকামগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ মাছ আসছে, তা বিগত সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ বাড়ার এই ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারেও পড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসছে সুস্বাদু এই মাছ।

নগরীর পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন বড় পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বিভিন্ন আকৃতির ইলিশের দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ প্রায় বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক আগেও এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা গুনতে হতো, যা এখন বেশ কমে এসেছে। একইভাবে ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশের দামেও বড় ধরনের পতন ঘটায় ক্রেতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এবং অনেকেই চাহিদামতো একাধিক মাছ ক্রয় করছেন।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহ খানেক আগে মোকামটিতে যেখানে মাত্র সত্তর-পঁচাত্তর মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছিল, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে তা একশো ষাট মণে গিয়ে ঠেকেছে। বড় আকৃতির দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মণপ্রতি লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হলেও দাম কমে এখন তা অনেক সাশ্রয়ী হয়েছে। আকারভেদে প্রতি মণ ইলিশের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা উভয় ব্যবসায়ীর সঙ্গেই সাধারণ ক্রেতাদের লেনদেনে গতি ফিরেছে।

মাছ ধরা বাড়ার পেছনে জেলেদের অভিজ্ঞতা এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ইতিবাচক মত দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে নদীর জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে জেলে ও ব্যবসায়ীরা সরকারের নির্ধারিত ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে নতুন দাবি তুলেছেন, কারণ এই সময়েও অনেক মাছের পেটে পরিপক্ক ডিম আসেনি বলে তারা মনে করছেন। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরবরাহ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নামতে পারে এবং জেলেদের দাবির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-ভিডিও ভাইরাল, বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন

বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা

প্রকাশিত ০১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামে বিক্রির পর অবশেষে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদী ও সাগরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার সুফল মিলছে বাজারে। বরিশাল অঞ্চলের পাইকারি ও খুচরা মাছের বাজারগুলোতে রূপালি ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় মোকামগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ মাছ আসছে, তা বিগত সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ বাড়ার এই ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারেও পড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসছে সুস্বাদু এই মাছ।

নগরীর পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন বড় পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বিভিন্ন আকৃতির ইলিশের দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ প্রায় বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক আগেও এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা গুনতে হতো, যা এখন বেশ কমে এসেছে। একইভাবে ছোট ও মাঝারি সাইজের ইলিশের দামেও বড় ধরনের পতন ঘটায় ক্রেতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এবং অনেকেই চাহিদামতো একাধিক মাছ ক্রয় করছেন।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহ খানেক আগে মোকামটিতে যেখানে মাত্র সত্তর-পঁচাত্তর মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছিল, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে তা একশো ষাট মণে গিয়ে ঠেকেছে। বড় আকৃতির দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মণপ্রতি লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হলেও দাম কমে এখন তা অনেক সাশ্রয়ী হয়েছে। আকারভেদে প্রতি মণ ইলিশের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা উভয় ব্যবসায়ীর সঙ্গেই সাধারণ ক্রেতাদের লেনদেনে গতি ফিরেছে।

মাছ ধরা বাড়ার পেছনে জেলেদের অভিজ্ঞতা এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ইতিবাচক মত দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে নদীর জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে জেলে ও ব্যবসায়ীরা সরকারের নির্ধারিত ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে নতুন দাবি তুলেছেন, কারণ এই সময়েও অনেক মাছের পেটে পরিপক্ক ডিম আসেনি বলে তারা মনে করছেন। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরবরাহ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নামতে পারে এবং জেলেদের দাবির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।