সম্প্রতি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এম এ খালেক নামের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি অতীতে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত পার হয়ে দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে তিনি ওই চেকপোস্টে উপস্থিত হলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছিল। সেই সতর্কতার অংশ হিসেবেই এম এ খালেকের বহির্গমন প্রক্রিয়া যাচাই করার সময় তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর তাকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির দেশত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থল ও বিমান বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় মেহেরপুরের এই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে প্রবেশের মুহূর্তে ধরা পড়েন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে যথাযথ আদালতে সোপর্দ করা হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং চলমান বিভিন্ন মামলার তদন্তের সুবিধার্থে এই ধরনের নজরদারি ও অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।































