ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এফবিআইয়ের সব এজেন্টের গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি হ্যাকারদের Logo বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট Logo এমপির মোবাইল নম্বর হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবি Logo দৌলতপুরে দুই মাসে ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত Logo রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে জোরালো ও কার্যকর সমর্থন চান তারেক রহমান Logo লাল লিপস্টিক: সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ক্ষমতা, দ্রোহ ও সৌন্দর্যের ইতিহাস Logo কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু Logo পত্রিকা: ‘ডিএমপির অপরাধী চক্রের তালিকায় প্রতি ছয়জনে একজন ১৮ বছরের কম বয়সী’ Logo ইউটিউব দেখে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ, তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা জব্বারের Logo বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি: ভুয়া নিয়োগ ও ভিসা স্পনসরশিপের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে

ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডা অঞ্চলে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি থেকে ছেড়ে আসা মহোবার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বাসটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ফলে মুহূর্তেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অন্তত নয়জন যাত্রীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চলন্ত অবস্থায় রাতের বেলা ঘটা এই দুর্ঘটনায় বাসটিতে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েন। জীবন বাঁচাতে অনেক যাত্রী চলন্ত বাস থেকেই বাইরে লাফিয়ে পড়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি রাতে নির্ধারিত রুট ধরে যাওয়ার সময় এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট এবং তারা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঠিক কী কারণে ওই চলন্ত যানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বাসের বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এদিকে বাসটির এক যাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, রাতের বেলা ভ্রমণের সময় যাত্রীরা চালকের কেবিন থেকে তীব্র পোড়া গন্ধ পান এবং বিষয়টি চালক ও কন্ডাক্টরকে অবহিত করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, গাড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যাত্রীদের সেই সতর্কবার্তা আমলে নেননি এবং কেবিনে বসে ধূমপান অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পরও বাস থামিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে আগুন দ্রুত পুরো যানে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীরা সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে গণমাধ্যমের কাছে রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ আগুনে পুড়ছে বুঝতে পেরে যাত্রীরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন এবং পদদলিত হওয়ার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাসের ভেতরে পর্যাপ্ত প্রস্থান পথ না থাকায় এবং বাতাসের সঙ্গে ধোঁয়া মিশে যাওয়ায় অনেকেরই দম বন্ধ হয়ে আসে। অনেকেই কোনোমতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন।

জনপ্রিয়

এফবিআইয়ের সব এজেন্টের গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি হ্যাকারদের

ভারতে স্লিপার বাসে আগুন, নিহত ৯

প্রকাশিত ০৯:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডা অঞ্চলে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি চলন্ত স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি থেকে ছেড়ে আসা মহোবার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বাসটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ফলে মুহূর্তেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অন্তত নয়জন যাত্রীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চলন্ত অবস্থায় রাতের বেলা ঘটা এই দুর্ঘটনায় বাসটিতে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েন। জীবন বাঁচাতে অনেক যাত্রী চলন্ত বাস থেকেই বাইরে লাফিয়ে পড়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি রাতে নির্ধারিত রুট ধরে যাওয়ার সময় এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকল বাহিনীর একাধিক ইউনিট এবং তারা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঠিক কী কারণে ওই চলন্ত যানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বাসের বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এদিকে বাসটির এক যাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, রাতের বেলা ভ্রমণের সময় যাত্রীরা চালকের কেবিন থেকে তীব্র পোড়া গন্ধ পান এবং বিষয়টি চালক ও কন্ডাক্টরকে অবহিত করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, গাড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যাত্রীদের সেই সতর্কবার্তা আমলে নেননি এবং কেবিনে বসে ধূমপান অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পরও বাস থামিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে আগুন দ্রুত পুরো যানে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীরা সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে গণমাধ্যমের কাছে রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ আগুনে পুড়ছে বুঝতে পেরে যাত্রীরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন এবং পদদলিত হওয়ার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাসের ভেতরে পর্যাপ্ত প্রস্থান পথ না থাকায় এবং বাতাসের সঙ্গে ধোঁয়া মিশে যাওয়ায় অনেকেরই দম বন্ধ হয়ে আসে। অনেকেই কোনোমতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন।