ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

স্মৃতিতে তৌফিক: একজন পরামর্শক, একজন বন্ধু

মতামত ডেস্ক: লন্ডনে মারা গেছেন প্রবীণ সাংবাদিক তৌফিক, সম্প্রতি এমন একটি খবর পাওয়ার পর স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তার সাবেক সহকর্মী তীর্থঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলকাতা থেকে বন্ধু ঈশানী দত্ত রায়ের ফোনে এই মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন তিনি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় যোগাযোগ না থাকলেও এই সংবাদে গভীর আঘাত পান তার এই শুভাকাঙ্ক্ষী। তারা তিনজন একসময়ে একসঙ্গে বিবিসির বাংলা বিভাগে কাজ করেছিলেন।

১৯৯৯ সালের জুনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে যোগদানের কিছুদিন পর তৌফিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তীর্থঙ্করের। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে তৌফিক তাকে পেশাগত কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নানাভাবে পথপ্রদর্শন করেছিলেন। সহকর্মীর চেয়ে তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন সেই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তৌফিকের উদারতা ও আন্তরিকতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তার এই সাবেক জুনিয়র সহকর্মী।

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তরুণ বয়সেও শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তৌফিক। বিবিসির কিছু কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জুনিয়র সহকর্মীকে সুযোগটি পাইয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১২ সালে বিবিসি ছাড়ার কঠিন সময়ে এবং পরবর্তী সময়েও তৌফিকের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন পেশাগত মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করেছিল।

সাংবাদিকতা পেশার প্রতি তৌফিকের অঙ্গীকার ছিল অত্যন্ত অবিচল এবং তার নির্ভীকতা ছিল সকলের জন্য অনুকরণীয়। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তার দক্ষতা ছিল বেশ বিরল ও প্রশংসনীয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে তার নেতৃত্ব ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ২০১৩ সালের পর থেকে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও তৌফিক সবসময় তাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

জনপ্রিয়

পূবালী ব্যাংকের গুলশান সার্কেল-১ শাখা এখন ইসলামী ব্যাংকিং শাখা

স্মৃতিতে তৌফিক: একজন পরামর্শক, একজন বন্ধু

প্রকাশিত ০২:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: লন্ডনে মারা গেছেন প্রবীণ সাংবাদিক তৌফিক, সম্প্রতি এমন একটি খবর পাওয়ার পর স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তার সাবেক সহকর্মী তীর্থঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলকাতা থেকে বন্ধু ঈশানী দত্ত রায়ের ফোনে এই মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন তিনি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় যোগাযোগ না থাকলেও এই সংবাদে গভীর আঘাত পান তার এই শুভাকাঙ্ক্ষী। তারা তিনজন একসময়ে একসঙ্গে বিবিসির বাংলা বিভাগে কাজ করেছিলেন।

১৯৯৯ সালের জুনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে যোগদানের কিছুদিন পর তৌফিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তীর্থঙ্করের। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে তৌফিক তাকে পেশাগত কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নানাভাবে পথপ্রদর্শন করেছিলেন। সহকর্মীর চেয়ে তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন সেই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তৌফিকের উদারতা ও আন্তরিকতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তার এই সাবেক জুনিয়র সহকর্মী।

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তরুণ বয়সেও শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তৌফিক। বিবিসির কিছু কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জুনিয়র সহকর্মীকে সুযোগটি পাইয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১২ সালে বিবিসি ছাড়ার কঠিন সময়ে এবং পরবর্তী সময়েও তৌফিকের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন পেশাগত মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করেছিল।

সাংবাদিকতা পেশার প্রতি তৌফিকের অঙ্গীকার ছিল অত্যন্ত অবিচল এবং তার নির্ভীকতা ছিল সকলের জন্য অনুকরণীয়। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তার দক্ষতা ছিল বেশ বিরল ও প্রশংসনীয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে তার নেতৃত্ব ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ২০১৩ সালের পর থেকে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও তৌফিক সবসময় তাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়।