ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চৌগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু Logo ছেলে জয়ের জন্মদিনে শাকিবের স্বপ্ন, আবেগপ্রবণ অপু Logo বিচারককে ধর্ষণ মামলার বাদী, ‘আসামির সাজা হলে আমাকেও ফাঁসি দিতে হবে’ Logo সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য Logo ৮ম বারের মতো মেটলাইফ এর সাথে চুক্তি নবায়ন করলো এন আর বি ব্যাংক Logo হঠাৎ ভারতের মাটিতে নামল ৬ মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, সঙ্গে দুই শতাধিক সেনা Logo ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে সকল আউটলেটে ২৬% ডিসকাউন্ট দিচ্ছে এপেক্স Logo নিজাম উদ্দিন বাসেতের ১০০তম রক্তদান উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প Logo আবার আলোচনায় বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখল, নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন Logo খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ কিংবা বকেয়া খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সম্প্রতি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বড় অংকের সরকারি রাজস্ব মওকুফ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাপুর ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজায় প্রায় দুই একর আয়তনের একটি জলাশয়ের প্রায় অর্ধশত বছরের বকেয়া খাজনা ও জরিমানা মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন মাত্র ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা নিয়ে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অত্যন্ত কম টাকায় দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ দেখিয়ে এই ঘাপলা করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন। তাঁর দাবি, বর্তমান ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে চাইলেই কেউ কোনো অনিয়ম করতে পারে না এবং এটি পুরোপুরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তিনি আরও জানান, পুরোনো কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং সরকারি নীতিমালা ও আইন মেনেই ওই জমির সঠিক কর ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকারি রাজস্ব চুরির সামিল বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এদিকে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

চৌগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত ০৮:০০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ কিংবা বকেয়া খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সম্প্রতি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বড় অংকের সরকারি রাজস্ব মওকুফ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাপুর ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজায় প্রায় দুই একর আয়তনের একটি জলাশয়ের প্রায় অর্ধশত বছরের বকেয়া খাজনা ও জরিমানা মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন মাত্র ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা নিয়ে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অত্যন্ত কম টাকায় দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ দেখিয়ে এই ঘাপলা করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন। তাঁর দাবি, বর্তমান ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে চাইলেই কেউ কোনো অনিয়ম করতে পারে না এবং এটি পুরোপুরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তিনি আরও জানান, পুরোনো কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং সরকারি নীতিমালা ও আইন মেনেই ওই জমির সঠিক কর ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকারি রাজস্ব চুরির সামিল বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এদিকে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।