হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্নীতির মামলার মূল অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা তাকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠিয়েছেন। আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নিজ ঠিকানায় সশর গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সেখানে তার কোনো অধীনস্থ প্রতিনিধিকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং একজন নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে তার বাসভবনের ঠিকানায় নোটিশটি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মামলার বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য গ্রহণ করার জন্যই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, সাবেক এই সামরিক উপদেষ্টাসহ মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি আলাদা মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এই চার মামলার একটি হলো বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির মামলা।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সাল থেকে টানা দীর্ঘদিন ধরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী দায়িত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক। পরবর্তীতে গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দর প্রকল্পের অর্থ লোপাটের এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।




































