রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সম্প্রতি উত্তরা সাত নম্বর সেক্টরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শওকত হাসানুর রহমান রিমনের একটি বাসায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে ওই ফ্ল্যাটে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে কোনো গোপন বৈঠক বা নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে এবং সন্দেহভাজনদের পাকড়াও করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে অভিযانের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে আটককৃতদের উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ওই রাজনৈতিক দলের পক্ষে কোনো ধরনের গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
অভিযানের পর আটককৃতদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার পরিকল্পনা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে ঠিক কী ধরনের নাশকতার ছক কষা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অনেক বিষয় এই মুহূর্তে গোপন রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইয়াকুব হোসাইন রাজিব, আরাফাত মিয়া, রিফাত হাওলাদার, হৃদয়, ফাহিম, রাজিব হোসেন রানা, ফিরোজ, আরিফ হোসেন, আবদুল্লাহ আল আমান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সোহানুর হোসেন শাহীন, হাসিব, ফারজানা, হাসিব মিয়া এবং ওমর ফারুক রয়েছেন। এদিকে যে বাসাটি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার মালিক মো. শওকত হাসানুর রহমান রিমন অতীতে বরগুনা-দুই আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।





































