ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী Logo পানির হিস্যায় ভারতকে এক চুলও ছাড় দেবো না: নাহিদ ইসলাম Logo বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে এফসি হিসাব খোলার সুযোগ Logo খনন শেষে মিলেছে গ্যাস, যুক্ত হবে গ্যাসের জাতীয় গ্রিডে Logo ‘হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিল’—অডিও ক্লিপটি ওসি রাকিবুলেরই Logo ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় উদ্যোগ, দেশে আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo ঢাকা শহরে প্ল্যান ছাড়া বানানো ভবনগুলো শনাক্ত করছি: গণপূর্তমন্ত্রী Logo মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হবে নির্মোহ ও নির্ভুল: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী Logo নতুন করে কেউ আ.লীগ হতে চাইলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে: রাশেদ প্রধান Logo বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আর আবেদন নয়, চূড়ান্ত যাচাইয়ে বাদ পড়বেন অ-মুক্তিযোদ্ধারা

নতুন করে কেউ আ.লীগ হতে চাইলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে: রাশেদ প্রধান

রাজনীতি ডেস্ক: ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মূল উদ্দেশ্য দেশে কোনো নব্য আওয়ামী লীগ বা বিদেশি শক্তির তোষণকারী শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছিল না। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ক্ষমতার চেয়ারে বসে যদি কেউ দেশবিরোধী কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে কিংবা নতুন করে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পথ বেছে নেয়, তবে তাদের পরিণতিও ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর মতোই হবে। যুব জাগপার উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

স্মরণসভায় বক্তারা ২০১৯ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন, যেখানে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী মতামত প্রকাশের অপরাধে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন। রাশেদ প্রধান বলেন, হামলাকারীরা ভেবেছিল একটি প্রাণ কেড়ে নিলে বা একটি কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিলে দেশের সাধারণ মানুষ ভয়ে চুপসে যাবে। কিন্তু তাদের সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে, কারণ আবরারের এই আত্মত্যাগ পরবর্তীতে হাজারো তরুণের মনে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং সেই তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শাসনের চূড়ান্ত পতন ত্বরান্বিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাগপার এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন যে, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার ও তার দোসররা দেশ ছেড়ে পালালেও তাদের রেখে যাওয়া আধিপত্যবাদী চক্রটি এখনো গোপনে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। যারা নতুন রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে পুরোনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় এবং দিল্লির সুনজর পাওয়ার আশায় দেনদরবার করে বেড়ায়, দেশের সচেতন মুক্তিকামী জনতা তাদের খুব ভালোভাবেই চিনে ফেলেছে। অতীতে যারা ভিনদেশি স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত ছিল, বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের সেই পুরনো রাজনীতি আর সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই মিলে দেশীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়।

জনপ্রিয়

ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী

নতুন করে কেউ আ.লীগ হতে চাইলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে: রাশেদ প্রধান

প্রকাশিত ০৪:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মূল উদ্দেশ্য দেশে কোনো নব্য আওয়ামী লীগ বা বিদেশি শক্তির তোষণকারী শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছিল না। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ক্ষমতার চেয়ারে বসে যদি কেউ দেশবিরোধী কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে কিংবা নতুন করে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পথ বেছে নেয়, তবে তাদের পরিণতিও ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর মতোই হবে। যুব জাগপার উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

স্মরণসভায় বক্তারা ২০১৯ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন, যেখানে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী মতামত প্রকাশের অপরাধে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন। রাশেদ প্রধান বলেন, হামলাকারীরা ভেবেছিল একটি প্রাণ কেড়ে নিলে বা একটি কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিলে দেশের সাধারণ মানুষ ভয়ে চুপসে যাবে। কিন্তু তাদের সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে, কারণ আবরারের এই আত্মত্যাগ পরবর্তীতে হাজারো তরুণের মনে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং সেই তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শাসনের চূড়ান্ত পতন ত্বরান্বিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাগপার এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন যে, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার ও তার দোসররা দেশ ছেড়ে পালালেও তাদের রেখে যাওয়া আধিপত্যবাদী চক্রটি এখনো গোপনে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। যারা নতুন রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে পুরোনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় এবং দিল্লির সুনজর পাওয়ার আশায় দেনদরবার করে বেড়ায়, দেশের সচেতন মুক্তিকামী জনতা তাদের খুব ভালোভাবেই চিনে ফেলেছে। অতীতে যারা ভিনদেশি স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত ছিল, বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের সেই পুরনো রাজনীতি আর সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই মিলে দেশীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়।