সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে বিদেশ গমনেচ্ছু এক ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করার কথোপকথন শোনা যায়। এতে গণ অধিকার পরিষদের উচ্চপর্যায়ের নেতার নির্দেশ উল্লেখ করে পাঁচ লাখ টাকার নিচে কোনো কাজ হবে না বলে দাবি করা হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপটি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে। তবে গণমাধ্যমের পক্ষে এই অডিও রেকর্ডের সত্যতা বা এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভাইরাল হওয়া ওই ফোনালাপে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তিকে একাধিকবার বাবা বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। কথোপকথনে পাসপোর্ট জমা দেওয়া, ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা করা, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এসব কাজের প্রাথমিক খরচ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ এবং বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। অডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই তা নজরে আসে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের। অনেকেই এই নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুললেও তার সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত নেতাকে দল থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেনের স্বাক্ষর সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফারুক হোসেনকে লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। সংগঠনের এমন কঠোর পদক্ষেপে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বহিষ্কৃত যুব অধিকার নেতা ফারুক হোসেন। তাঁর দাবি, তিনি এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর নকল করে ওই ভুয়া অডিও তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ফোনালাপে থাকা সেই ব্যক্তি জানান যে তার কাছে মূলত পাঁচ হাজার টাকা পাসপোর্ট তৈরির খরচ বাবদ চাওয়া হয়েছিল, যা পরে এডিট করে পাঁচ লাখ টাকা বানানো হয়েছে। এছাড়া গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তার নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ বাণিজ্য বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।





































