ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ডিসেম্বরে শুরু হবে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুই বছর পর পায়রা বন্দরে চীনের জাহাজ, যুক্ত হলো ৫টি আধুনিক ক্রেন Logo জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় আবারো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি Logo ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী Logo পানির হিস্যায় ভারতকে এক চুলও ছাড় দেবো না: নাহিদ ইসলাম Logo বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে এফসি হিসাব খোলার সুযোগ Logo খনন শেষে মিলেছে গ্যাস, যুক্ত হবে গ্যাসের জাতীয় গ্রিডে Logo ‘হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিল’—অডিও ক্লিপটি ওসি রাকিবুলেরই Logo ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় উদ্যোগ, দেশে আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo ঢাকা শহরে প্ল্যান ছাড়া বানানো ভবনগুলো শনাক্ত করছি: গণপূর্তমন্ত্রী

ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক: বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আত্মদানের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছিল। তৎকালীন সরকারের নতজানু নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাণিত প্রতিবাদ জানানোর অপরাধেই তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে আবরারের আত্মত্যাগের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে এবং জাতির রক্তের কণায় প্রবাহিত বিদ্রোহের স্রোত কোনো জুলুম-নির্যাতন দিয়েই দমিয়ে রাখা যায়নি। দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদকে আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি নেতা জানান, জাতি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনোই কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

ছাত্রদলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের কর্মীরা নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়েননি। খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল প্রকাশ্য রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছে বলেই আজ কেউ তাদের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল সেই সময়ের সরকার, যা পরবর্তীতে উল্টো তাদের পতনের পথ ত্বরান্বিত করেছিল। তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অতীতের জুলুমকে শক্তিতে রূপান্তর করে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে একটি সফল রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম ছাত্রদলই জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং বিগত দেড় দশক ধরে নানা নিপীড়নের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে ছাত্রদল যেকোনো ধরনের আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অতীতেও সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থ রক্ষায় একই পথে অবিচল থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

ডিসেম্বরে শুরু হবে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী

প্রকাশিত ০৬:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আত্মদানের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছিল। তৎকালীন সরকারের নতজানু নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাণিত প্রতিবাদ জানানোর অপরাধেই তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে আবরারের আত্মত্যাগের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে এবং জাতির রক্তের কণায় প্রবাহিত বিদ্রোহের স্রোত কোনো জুলুম-নির্যাতন দিয়েই দমিয়ে রাখা যায়নি। দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদকে আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি নেতা জানান, জাতি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনোই কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

ছাত্রদলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের কর্মীরা নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়েননি। খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল প্রকাশ্য রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছে বলেই আজ কেউ তাদের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল সেই সময়ের সরকার, যা পরবর্তীতে উল্টো তাদের পতনের পথ ত্বরান্বিত করেছিল। তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অতীতের জুলুমকে শক্তিতে রূপান্তর করে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে একটি সফল রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম ছাত্রদলই জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং বিগত দেড় দশক ধরে নানা নিপীড়নের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে ছাত্রদল যেকোনো ধরনের আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অতীতেও সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থ রক্ষায় একই পথে অবিচল থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।