ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে দেশীয় কৌশলেই এগোচ্ছে সরকার Logo বাংলাদেশপন্থা: একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শন Logo জন–আস্থা অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ Logo দেশ কি আরেক এক-এগারোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে Logo পীরগাছায় বিএনপি সভাপতির সারের ডিলারের তালিকা ফাঁস Logo পত্রিকা: ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাসহ একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ত্রিবেদী’ Logo চাকরির শুরুতে ৩০ হাজার টাকার বেশি বেতন, আবেদন করা যাবে যেসব চাকরিতে Logo ৪ বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ Logo প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, সবচেয়ে বেশি খেলেছে কারা Logo অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়াই বিমান কেনার ধুম

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়াই বিমান কেনার ধুম

অর্থনীতি ডেস্ক: ১৯৭২ সালে কার্যক্রম শুরু করা রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও সংস্থাটির বহরে নতুন করে আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ২৫টি এবং ইউরোপের এয়ারবাস কোম্পানির কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব উড়োজাহাজ কেনার জন্য বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে, বিমান কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল মূলত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ বা ভাড়া নেওয়ার মাধ্যমে বহর সমৃদ্ধ করা। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই বা সমীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ করে একসঙ্গে এতগুলো নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একটি সফল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে এই বিশাল বহর শেষ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বড় একটি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক সমীকরণ এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে সম্পর্ক রক্ষার চাপ থেকেই এই বড় ধরনের ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহরের তুলনায় বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি বেশি হওয়ার কথা উঠে এসেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে। বোয়িংয়ের ওই অনসাইট সাপোর্ট রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে তাদের অন্যান্য গ্রাহকদের তুলনায় বিমানের উড়োজাহাজে ত্রুটির হার বেশি এবং মেরামতের পেছনেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়। এমন বাস্তবতায় নতুন উড়োজাহাজগুলো পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পাইলট, প্রকৌশলী ও কারিগরি দক্ষ জনবল তৈরি করা নিয়ে বড় শঙ্কা রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ ছাড়াই কেবল নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই উড়োজাহাজগুলো কেনার চুক্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২৫টি বোয়িং কিনতে প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে এবং এয়ারবাসের দাম যুক্ত করলে এই মোট ক্রয়মূল্য লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বর্তমান সরকারের মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে না কারণ উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ এবং মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া চলবে আগামী দশক পর্যন্ত। প্রথম উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে আগামী দশকের শুরুতে এবং শেষ চালান আসবে তারও পরে, যার ফলে এর মূল আর্থিক চাপ মূলত পরবর্তী সরকারগুলোর ওপর গিয়ে বর্তাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ প্রস্তুতি এবং সঠিক ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণ করা না গেলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

জনপ্রিয়

ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে দেশীয় কৌশলেই এগোচ্ছে সরকার

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়াই বিমান কেনার ধুম

প্রকাশিত ০৮:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: ১৯৭২ সালে কার্যক্রম শুরু করা রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও সংস্থাটির বহরে নতুন করে আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ২৫টি এবং ইউরোপের এয়ারবাস কোম্পানির কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব উড়োজাহাজ কেনার জন্য বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে, বিমান কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল মূলত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ বা ভাড়া নেওয়ার মাধ্যমে বহর সমৃদ্ধ করা। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই বা সমীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ করে একসঙ্গে এতগুলো নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একটি সফল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে এই বিশাল বহর শেষ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বড় একটি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক সমীকরণ এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে সম্পর্ক রক্ষার চাপ থেকেই এই বড় ধরনের ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহরের তুলনায় বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি বেশি হওয়ার কথা উঠে এসেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে। বোয়িংয়ের ওই অনসাইট সাপোর্ট রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে তাদের অন্যান্য গ্রাহকদের তুলনায় বিমানের উড়োজাহাজে ত্রুটির হার বেশি এবং মেরামতের পেছনেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়। এমন বাস্তবতায় নতুন উড়োজাহাজগুলো পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পাইলট, প্রকৌশলী ও কারিগরি দক্ষ জনবল তৈরি করা নিয়ে বড় শঙ্কা রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ ছাড়াই কেবল নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই উড়োজাহাজগুলো কেনার চুক্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২৫টি বোয়িং কিনতে প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে এবং এয়ারবাসের দাম যুক্ত করলে এই মোট ক্রয়মূল্য লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বর্তমান সরকারের মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে না কারণ উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ এবং মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া চলবে আগামী দশক পর্যন্ত। প্রথম উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে আগামী দশকের শুরুতে এবং শেষ চালান আসবে তারও পরে, যার ফলে এর মূল আর্থিক চাপ মূলত পরবর্তী সরকারগুলোর ওপর গিয়ে বর্তাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ প্রস্তুতি এবং সঠিক ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণ করা না গেলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।