ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পচা দাঁত থেকে ব্লুটুথ! জেনে নিন এর পেছনের হাজার বছরের পুরোনো গল্প Logo বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সুপারিশ Logo আদালতের মর্যাদা: কর্তৃত্বে, না সংযমে Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ Logo ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৯৪ শতাংশ পদ ফাঁকা Logo সরিষার তেল বেশি উপকারী নাকি সয়াবিন তেল Logo বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা পঞ্চমবার পাবিপ্রবির নূর আলম Logo নৃত্যের ভাষায় শামীম আরা নিপার দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গল্প | তাঁHER কথা | পর্ব–০৬ Logo রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখার সুপারিশ Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে গোবিপ্রবিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখার সুপারিশ

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য গভীরভাবে খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই জোরালো সুপারিশ করা হয়, যা পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানানো হয়। বৈঠকে রাজউকের সামগ্রিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সভাপতি ও প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির একাধিক সদস্য ও হুইপরা উপস্থিত থেকে নানা দিকনির্দেশনা দেন।

আলোচনায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিলের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। রাজউক কর্তৃপক্ষ কমিটিকে জানিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় ভবিষ্যতে আর নতুন করে কোনো প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া, পূর্বাচল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের কারণে অতীতে যেসব মালিক তাদের জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাওনা প্লটগুলো দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

ঢাকার সুপরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন কোনো ভূমিনির্ভর আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের যেকোনো ধরনের হয়রানি রোধ করতে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক শহর গড়তে সমন্বিত সেবাব্যবস্থা চালু, মাটির নিচে তার স্থাপন, নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার সব লেক সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব দ্রুত নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া, ঝুলে থাকা সকল নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই বৈঠকে কমিটির সভাপতি ছাড়াও সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন। রাজউকের সেবার মান বৃদ্ধি এবং রাজধানীজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশের মাধ্যমেই মূলত বৈঠকটির কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।

জনপ্রিয়

পচা দাঁত থেকে ব্লুটুথ! জেনে নিন এর পেছনের হাজার বছরের পুরোনো গল্প

রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখার সুপারিশ

প্রকাশিত ০৯:০০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য গভীরভাবে খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই জোরালো সুপারিশ করা হয়, যা পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানানো হয়। বৈঠকে রাজউকের সামগ্রিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সভাপতি ও প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির একাধিক সদস্য ও হুইপরা উপস্থিত থেকে নানা দিকনির্দেশনা দেন।

আলোচনায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিলের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। রাজউক কর্তৃপক্ষ কমিটিকে জানিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় ভবিষ্যতে আর নতুন করে কোনো প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া, পূর্বাচল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের কারণে অতীতে যেসব মালিক তাদের জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাওনা প্লটগুলো দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

ঢাকার সুপরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন কোনো ভূমিনির্ভর আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের যেকোনো ধরনের হয়রানি রোধ করতে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক শহর গড়তে সমন্বিত সেবাব্যবস্থা চালু, মাটির নিচে তার স্থাপন, নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার সব লেক সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব দ্রুত নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া, ঝুলে থাকা সকল নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই বৈঠকে কমিটির সভাপতি ছাড়াও সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন। রাজউকের সেবার মান বৃদ্ধি এবং রাজধানীজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশের মাধ্যমেই মূলত বৈঠকটির কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।