ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরিষার তেল বেশি উপকারী নাকি সয়াবিন তেল Logo বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা পঞ্চমবার পাবিপ্রবির নূর আলম Logo নৃত্যের ভাষায় শামীম আরা নিপার দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গল্প | তাঁHER কথা | পর্ব–০৬ Logo রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখার সুপারিশ Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে গোবিপ্রবিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo রাবিতে উপকূলীয় দুর্যোগের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ Logo জাবি উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস প্রতিনিধিদলের Logo চুরি যাওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক Logo নোবিপ্রবিতে ৩য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস’ শুরু Logo পাবিপ্রবিতে ‘স্টেজ ক্রাফট’ প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে সরকার-জাতিসংঘের ৩০ মাসের কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক: বিদেশফেরত অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আড়াই বছরের একটি বিশেষ যৌথ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, যা অভিবাসন খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মাইগ্রেশন মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, জাতিসংঘ শিশু তহবিল এবং জাতিসংঘ নারী সংস্থা। এই পাঁচ শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সরকার একটি যুগোপযোগী ও অভিবাসীবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করবে। বিশেষ করে সংকটের মুখে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অভিবাসী এবং ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান যে, প্রবাস থেকে ফিরে আসা কর্মী ও তাঁদের পরিবারগুলোর এমন সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রয়োজন যা তাঁদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্দ উল্লেখ করেন যে, অভিবাসন কেবল কর্মসংস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশে ফেরার পর একজন মানুষের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—এই তিন স্তরে সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভিবাসীদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যার একটি বড় অংশে নারী কর্মী রয়েছে। তবে বিদেশ থেকে ফেরার পর অনেকেই কর্মসংস্থানের অভাব এবং মানসিক চাপসহ নানা জটিল সংকটের মুখোমুখি হন। এই বাস্তবতায় নতুন কর্মসূচির আওতায় বিদেশফেরতদের জন্য জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি সেবার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করার বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে এই পুনর্বাসন কর্মসূচিটি। জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের মতো বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে এই উদ্যোগ বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘভুক্ত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে নিজেদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

সরিষার তেল বেশি উপকারী নাকি সয়াবিন তেল

বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে সরকার-জাতিসংঘের ৩০ মাসের কর্মসূচি

প্রকাশিত ০৮:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: বিদেশফেরত অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আড়াই বছরের একটি বিশেষ যৌথ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, যা অভিবাসন খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মাইগ্রেশন মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মূল বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, জাতিসংঘ শিশু তহবিল এবং জাতিসংঘ নারী সংস্থা। এই পাঁচ শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সরকার একটি যুগোপযোগী ও অভিবাসীবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করবে। বিশেষ করে সংকটের মুখে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অভিবাসী এবং ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান যে, প্রবাস থেকে ফিরে আসা কর্মী ও তাঁদের পরিবারগুলোর এমন সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রয়োজন যা তাঁদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্দ উল্লেখ করেন যে, অভিবাসন কেবল কর্মসংস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশে ফেরার পর একজন মানুষের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—এই তিন স্তরে সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভিবাসীদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যার একটি বড় অংশে নারী কর্মী রয়েছে। তবে বিদেশ থেকে ফেরার পর অনেকেই কর্মসংস্থানের অভাব এবং মানসিক চাপসহ নানা জটিল সংকটের মুখোমুখি হন। এই বাস্তবতায় নতুন কর্মসূচির আওতায় বিদেশফেরতদের জন্য জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি সেবার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করার বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে এই পুনর্বাসন কর্মসূচিটি। জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের মতো বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে এই উদ্যোগ বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘভুক্ত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে নিজেদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।