ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন Logo ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর Logo সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর Logo মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক Logo ১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা Logo নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগ পূর্তি, থাকছে নানা আয়োজন Logo বিশ্বসেরা দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় পাবিপ্রবি সাবেক শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম Logo বাকৃবিতে দুই দিনব্যাপী বিআইই কার্নিভাল শুরু Logo এক বাবার ৬ সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছায়েদ উল্লাহর স্বপ্নপূরণের গল্প

এক বাবার ৬ সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছায়েদ উল্লাহর স্বপ্নপূরণের গল্প

জাতীয় ডেস্ক: অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতা কোনোদিনই জীবন সংগ্রামের পথ থেকে পিছিয়ে দিতে পারেনি এক শিক্ষককে। সীমিত আয় এবং চরম আর্থিক সংকট সত্ত্বেও শিক্ষালাভকেই পরিবারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ। নোয়াখালীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিন দশক শিক্ষকতা করে অবসরে যাওয়া এই মানুষটির জীবন কেটেছে সীমাহীন ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমিত বেতনের ওপর নির্ভর করে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজের পৈতৃক জমিও বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। তবে সেই কঠোর সাধনা ও আত্মত্যাগের ফল আজ হাতেনাতে মিলেছে, যা পুরো এলাকায় এক অনন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ফাজিল মিয়ার হাট এলাকার বাসিন্দা ছায়েদ উল্লাহর এই সাফল্যের পথচলা শুরু হয়েছিল অনেক বছর আগে। একে একে তার পাঁচ সন্তান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর এবার ছোট ছেলেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে একই পরিবারের ছয়টি সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিরল ও অবিশ্বাস্য গৌরব অর্জন করেছেন। এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাবৈচিত্র্যের গল্প প্রথম প্রকাশ্যে আসে কয়েক বছর আগে, যখন পরিবারের পাঁচ সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সাফল্যের খবর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক সময়ে কনিষ্ঠ সন্তানের সর্বশেষ সংযোজনের মাধ্যমে এই অভাবনীয় গৌরবের মুকুটে আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

পরিবারের এই সুদীর্ঘ সাফল্যের সূচনা ঘটেছিল ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে, যখন বড় ছেলে শামসুল আলম দিপু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্ব শেষ করে তিনি ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পথ ধরে দ্বিতীয় ছেলে শাহজাহান সিরাজ আল মামুন লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে উচ্চপদে কর্মরত আছেন। তৃতীয় সন্তান আশরাফুল ইসলাম শহীদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ শেষ করে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পরিবারের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

সবশেষ এই সফলতার মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করেছেন ছোট ছেলে আরাফাত হোসেন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন। ছয় সন্তানের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মূল কারিগর হিসেবে ছায়েদ উল্লাহর পাশাপাশি তার স্ত্রী শামীমা বেগমের ধৈর্য, অবদান ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন স্থানীয়রা। শিক্ষক দম্পতির এই অসামান্য অর্জন সাধারণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক উজ্জ্বল রূপকথা হয়ে উঠেছে। এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরাও এই ঘটনাকে কেবল কয়েকটি ভর্তির গল্প হিসেবে দেখছেন না, বরং একে শিক্ষাকে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার এক অনুপম দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছেন।

জনপ্রিয়

স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

এক বাবার ৬ সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছায়েদ উল্লাহর স্বপ্নপূরণের গল্প

প্রকাশিত ১১:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতা কোনোদিনই জীবন সংগ্রামের পথ থেকে পিছিয়ে দিতে পারেনি এক শিক্ষককে। সীমিত আয় এবং চরম আর্থিক সংকট সত্ত্বেও শিক্ষালাভকেই পরিবারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ। নোয়াখালীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিন দশক শিক্ষকতা করে অবসরে যাওয়া এই মানুষটির জীবন কেটেছে সীমাহীন ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমিত বেতনের ওপর নির্ভর করে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজের পৈতৃক জমিও বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। তবে সেই কঠোর সাধনা ও আত্মত্যাগের ফল আজ হাতেনাতে মিলেছে, যা পুরো এলাকায় এক অনন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ফাজিল মিয়ার হাট এলাকার বাসিন্দা ছায়েদ উল্লাহর এই সাফল্যের পথচলা শুরু হয়েছিল অনেক বছর আগে। একে একে তার পাঁচ সন্তান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর এবার ছোট ছেলেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে একই পরিবারের ছয়টি সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিরল ও অবিশ্বাস্য গৌরব অর্জন করেছেন। এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাবৈচিত্র্যের গল্প প্রথম প্রকাশ্যে আসে কয়েক বছর আগে, যখন পরিবারের পাঁচ সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সাফল্যের খবর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক সময়ে কনিষ্ঠ সন্তানের সর্বশেষ সংযোজনের মাধ্যমে এই অভাবনীয় গৌরবের মুকুটে আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

পরিবারের এই সুদীর্ঘ সাফল্যের সূচনা ঘটেছিল ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে, যখন বড় ছেলে শামসুল আলম দিপু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্ব শেষ করে তিনি ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পথ ধরে দ্বিতীয় ছেলে শাহজাহান সিরাজ আল মামুন লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে উচ্চপদে কর্মরত আছেন। তৃতীয় সন্তান আশরাফুল ইসলাম শহীদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ শেষ করে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পরিবারের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

সবশেষ এই সফলতার মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করেছেন ছোট ছেলে আরাফাত হোসেন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন। ছয় সন্তানের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মূল কারিগর হিসেবে ছায়েদ উল্লাহর পাশাপাশি তার স্ত্রী শামীমা বেগমের ধৈর্য, অবদান ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন স্থানীয়রা। শিক্ষক দম্পতির এই অসামান্য অর্জন সাধারণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক উজ্জ্বল রূপকথা হয়ে উঠেছে। এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরাও এই ঘটনাকে কেবল কয়েকটি ভর্তির গল্প হিসেবে দেখছেন না, বরং একে শিক্ষাকে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার এক অনুপম দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছেন।