ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর Logo সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর Logo মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক Logo ১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা Logo নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগ পূর্তি, থাকছে নানা আয়োজন Logo বিশ্বসেরা দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় পাবিপ্রবি সাবেক শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম Logo বাকৃবিতে দুই দিনব্যাপী বিআইই কার্নিভাল শুরু Logo এক বাবার ৬ সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছায়েদ উল্লাহর স্বপ্নপূরণের গল্প Logo আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম কার্যত থমকে আছে। পূর্বের উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে তীব্র আকার ধারণ করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও সামগ্রিক ক্যাম্পাস জুড়েই এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই ক্যাম্পাসে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ও ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশও আন্দোলনে যুক্ত হন। এর ফলে বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সেমিস্টার ও টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাসহ সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের এই লাগাতার আন্দোলনের মুখে অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নিলেও তা এখনো কোনো সুফল বয়ে আনেনি। গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় আন্দোলনকারীরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে নতুন উপাচার্য মহোদয় এখনো পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসান উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্পূর্ণ যৌক্তিক একটি দাবিতে এই আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের এই ন্যায্য দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে একের পর এক পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ সেশনজট ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে নাগাদ আবার সচল হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর

১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত ১১:১৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম কার্যত থমকে আছে। পূর্বের উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে তীব্র আকার ধারণ করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও সামগ্রিক ক্যাম্পাস জুড়েই এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই ক্যাম্পাসে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ও ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশও আন্দোলনে যুক্ত হন। এর ফলে বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সেমিস্টার ও টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাসহ সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের এই লাগাতার আন্দোলনের মুখে অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নিলেও তা এখনো কোনো সুফল বয়ে আনেনি। গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় আন্দোলনকারীরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে নতুন উপাচার্য মহোদয় এখনো পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসান উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্পূর্ণ যৌক্তিক একটি দাবিতে এই আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের এই ন্যায্য দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে একের পর এক পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ সেশনজট ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে নাগাদ আবার সচল হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি।