ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আনন্দ–উচ্ছ্বাসে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গোলাম পরওয়ার Logo স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন Logo ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর Logo সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর Logo মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক Logo ১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা Logo নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগ পূর্তি, থাকছে নানা আয়োজন Logo বিশ্বসেরা দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় পাবিপ্রবি সাবেক শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম

এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক

ধর্ম ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে সৃষ্ট আধুনিক বিপ্লব দেখে অনেকেই ইদানিং একে শেষ জামানার দাজ্জাল হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার এর ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ ‘এআই’ শব্দের সাথে ‘এক চোখ’ ধারণার অমিল খুঁজে বের করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে প্রযুক্তির অভাবনীয় রূপান্তর দেখে তাকে ধর্মীয় পরিভাষার সাথে গুলিয়ে ফেলার এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়, বরং ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যখন মানুষের ঘরে ঘরে টেলিভিশনের আগমন ঘটেছিল, তখনও সমাজের একটি অংশ একে হাদিসে বর্ণিত এক চোখের দাজ্জাল বলে দাবি করেছিল। ড্রয়িংরুমে রাখা সেই কাচের বাক্সে পৃথিবীর নানা প্রান্তের দৃশ্য ভেসে ওঠাকে অনেকে ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বৈশ্বিক বিস্তারের সময়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের নানা বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়াতে দেখা গেছে।

ইসলামের মূল দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দাজ্জাল কোনো রূপক ধারণা বা প্রযুক্তিগত কোনো উদ্ভাবন নয়, বরং তিনি আদম সন্তানের মধ্য থেকেই রক্তমাংসের একজন মানুষ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দাজ্জালের শারীরিক গঠন, চোখের বিশেষ অবস্থা এবং চেহারার নিখুঁত বিবরণ দিয়ে গেছেন যা কেবল একজন জীবন্ত মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি হবেন নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী একজন মানুষ, যাকে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠাবেন।

প্রযুক্তির বারবার দাজ্জাল হওয়ার এই ভুলের পেছনে মূল কারণ হলো দাজ্জালের প্রধান অস্ত্র প্রবঞ্চনা ও মিথ্যাচার। টেলিভিশন, ইন্টারনেট কিংবা বর্তমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হওয়ায় এগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই অপপ্রচার চালানো সম্ভব। তবে যেকোনো মাধ্যম বা হাতিয়ার আর তার অপব্যবহারকারী কখনোই এক বিষয় হতে পারে না, কারণ টেলিভিশন বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেমন অপরাধ হতে পারে তেমনি এর সদ্ব্যবহারেও কল্যাণ সাধিত হয়।

তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিকে দাজ্জাল বা কোনো কাল্পনিক শক্তির সাথে তুলনা করার কোনো অবকাশ ইসলামে নেই। শেষ জামানার ফিতনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অন্ধভাবে কোনো তথ্য বিশ্বাস না করে বরং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে ইসলামি মূল্যবোধ ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয়

আনন্দ–উচ্ছ্বাসে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক

প্রকাশিত ১১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে সৃষ্ট আধুনিক বিপ্লব দেখে অনেকেই ইদানিং একে শেষ জামানার দাজ্জাল হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার এর ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ ‘এআই’ শব্দের সাথে ‘এক চোখ’ ধারণার অমিল খুঁজে বের করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে প্রযুক্তির অভাবনীয় রূপান্তর দেখে তাকে ধর্মীয় পরিভাষার সাথে গুলিয়ে ফেলার এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়, বরং ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যখন মানুষের ঘরে ঘরে টেলিভিশনের আগমন ঘটেছিল, তখনও সমাজের একটি অংশ একে হাদিসে বর্ণিত এক চোখের দাজ্জাল বলে দাবি করেছিল। ড্রয়িংরুমে রাখা সেই কাচের বাক্সে পৃথিবীর নানা প্রান্তের দৃশ্য ভেসে ওঠাকে অনেকে ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বৈশ্বিক বিস্তারের সময়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের নানা বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়াতে দেখা গেছে।

ইসলামের মূল দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দাজ্জাল কোনো রূপক ধারণা বা প্রযুক্তিগত কোনো উদ্ভাবন নয়, বরং তিনি আদম সন্তানের মধ্য থেকেই রক্তমাংসের একজন মানুষ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দাজ্জালের শারীরিক গঠন, চোখের বিশেষ অবস্থা এবং চেহারার নিখুঁত বিবরণ দিয়ে গেছেন যা কেবল একজন জীবন্ত মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি হবেন নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী একজন মানুষ, যাকে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠাবেন।

প্রযুক্তির বারবার দাজ্জাল হওয়ার এই ভুলের পেছনে মূল কারণ হলো দাজ্জালের প্রধান অস্ত্র প্রবঞ্চনা ও মিথ্যাচার। টেলিভিশন, ইন্টারনেট কিংবা বর্তমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হওয়ায় এগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই অপপ্রচার চালানো সম্ভব। তবে যেকোনো মাধ্যম বা হাতিয়ার আর তার অপব্যবহারকারী কখনোই এক বিষয় হতে পারে না, কারণ টেলিভিশন বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেমন অপরাধ হতে পারে তেমনি এর সদ্ব্যবহারেও কল্যাণ সাধিত হয়।

তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিকে দাজ্জাল বা কোনো কাল্পনিক শক্তির সাথে তুলনা করার কোনো অবকাশ ইসলামে নেই। শেষ জামানার ফিতনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অন্ধভাবে কোনো তথ্য বিশ্বাস না করে বরং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে ইসলামি মূল্যবোধ ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।