জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ৫৩ তম আবর্তনের নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন এন্ড টেকনোলজি ( আইআইটি) বিভাগের ৪৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এস এম তারিকুল ইসলামের সনদপত্র স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অধ্যাপক মোহম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৮ টায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের এক প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয় ।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের ৫৩-তম ব্যাচের একজন নারী শিক্ষার্থী কর্তৃক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর ৪৪-তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এস. এম. তারিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা ৬.১০ মিনিটে বীর প্রতীক তারামন বিবি হল থেকে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী ইসলামনগরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে উক্ত শিক্ষার্থীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা, এবং সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ শনিবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার , প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিবৃতি উল্লেখ করে বলা হয়, সভায় উল্লিখিত ঘটনায় অভিযুক্ত এস. এম. তারিকুল ইসলাম এর স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সকল সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একইসাথে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা এবং উপর্যুক্ত ঘটনায় রাষ্ট্রীয় আইনে দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত-এর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক সর্বপ্রকার সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।














