ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিংকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হোম অ্যাপ্লায়েন্স নিয়ে এলো শাওমি Logo গোশতে পানি ও কৃত্রিম রং: অসাধু ব্যবসায়ীর ফাঁদে সাধারণ মানুষ Logo ঈদ আনন্দ বাড়াতে ভিভোর আকর্ষণীয় অফার Logo প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজি’র অডিট রিপোর্ট পেশ Logo ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাকৃবিতে প্রশিক্ষণ সমাপনী Logo হাবিপ্রবিতে বইয়ের উৎসব: জ্ঞানের আলোকধারায় মুখর তিনদিন Logo নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য আইএসডির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্যানেল আলোচনা Logo ‎বাঁধন কবি নজরুল সরকারি কলেজ ইউনিটের প্রধান উপদেষ্টার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Logo নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিলেন জবি ছাত্রদলের ফয়সাল কামাল Logo কুবিতে আইকিউএসির নবীন বরণ: দ্বিতীয় দিনে বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের অংশগ্রহণ

গোশতে পানি ও কৃত্রিম রং: অসাধু ব্যবসায়ীর ফাঁদে সাধারণ মানুষ

গোশতে পানি ও কৃত্রিম রং: অসাধু ব্যবসায়ীর ফাঁদে সাধারণ মানুষ

বাজারে মাংসের রঙ লালচে, টকটকে দেখতে সতেজ। কিন্তু এই রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে প্রতারণা। ক্রেতার চোখে ধুলো দিতে এবং ওজন বাড়িয়ে বেশি লাভ করতে কিছু অসাধু ও লোভী ব্যবসায়ীর অপকৌশল এখন বাজারে এক নীরব আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

গরু জবাইয়ের পর স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিক্রেতা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে দেন না। ফলে মাংসে রক্ত জমে থাকে, যা দেখতে লাল ও সতেজ মনে হলেও আসলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, জবাইয়ের পরপরই বা কিছু সময় পরপর মাংসে পানি মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। এতে করে মাংসের ওজন বেড়ে যায়, আর ক্রেতা অজান্তেই বাড়তি দামে কিনে নেন পানি মেশানো গোশত।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে মাংসকে বেশি লালচে ও আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং ব্যবহারের কথাও শোনা যায়। এই রং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যদি তা খাদ্যগ্রহণের উপযোগী না হয়। এ ধরনের প্রতারণা শুধু ভোক্তার সঙ্গে আর্থিক প্রতারণাই নয়, বরং সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপরও আঘাত।

তবে পুরো বাজারচিত্র একপাক্ষিক নয়। দেশের বিভিন্ন সুপারশপে তুলনামূলকভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায় মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির চিত্র দেখা যায়। সেখানে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে জবাই, রক্ত সম্পূর্ণ নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাটা ও সংরক্ষণ করা হয়। মাংসে পানি মেশানো বা কৃত্রিম রং ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। ফলে ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, ভেজালমুক্ত ও মানসম্মত মাংস পান। যদিও এসব সুপারশপে মাংসের দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে, তবুও অনেক ক্রেতা নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য সেই বাড়তি মূল্য দিতে আগ্রহী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাজা মাংসের একটি স্বাভাবিক রং ও গন্ধ থাকে। অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত লাল বা উজ্জ্বল রং, অতিরিক্ত পানি ঝরা বা অস্বাভাবিক নরম ভাব এসব লক্ষণ দেখলে ক্রেতাদের সতর্ক হওয়া উচিত। একইসঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা এবং কঠোর নজরদারি। ভোক্তাদের ঠকিয়ে যারা অল্প সময়ে বেশি লাভ করতে চায়, সেই অসাধু ও লোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাজারে ন্যায্যতা ফিরবে না। পাশাপাশি, সৎ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা এবং মানসম্মত বিক্রয়ব্যবস্থা যেমন সুপারশপগুলোর ভালো চর্চা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

সুস্থ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—উভয়েরই নৈতিক দায়িত্ব। সততা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া কোনো বাজারই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিংকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হোম অ্যাপ্লায়েন্স নিয়ে এলো শাওমি

গোশতে পানি ও কৃত্রিম রং: অসাধু ব্যবসায়ীর ফাঁদে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত ০৯:১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বাজারে মাংসের রঙ লালচে, টকটকে দেখতে সতেজ। কিন্তু এই রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে প্রতারণা। ক্রেতার চোখে ধুলো দিতে এবং ওজন বাড়িয়ে বেশি লাভ করতে কিছু অসাধু ও লোভী ব্যবসায়ীর অপকৌশল এখন বাজারে এক নীরব আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

গরু জবাইয়ের পর স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিক্রেতা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে দেন না। ফলে মাংসে রক্ত জমে থাকে, যা দেখতে লাল ও সতেজ মনে হলেও আসলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, জবাইয়ের পরপরই বা কিছু সময় পরপর মাংসে পানি মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। এতে করে মাংসের ওজন বেড়ে যায়, আর ক্রেতা অজান্তেই বাড়তি দামে কিনে নেন পানি মেশানো গোশত।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে মাংসকে বেশি লালচে ও আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং ব্যবহারের কথাও শোনা যায়। এই রং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যদি তা খাদ্যগ্রহণের উপযোগী না হয়। এ ধরনের প্রতারণা শুধু ভোক্তার সঙ্গে আর্থিক প্রতারণাই নয়, বরং সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপরও আঘাত।

তবে পুরো বাজারচিত্র একপাক্ষিক নয়। দেশের বিভিন্ন সুপারশপে তুলনামূলকভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায় মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির চিত্র দেখা যায়। সেখানে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে জবাই, রক্ত সম্পূর্ণ নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাটা ও সংরক্ষণ করা হয়। মাংসে পানি মেশানো বা কৃত্রিম রং ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। ফলে ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, ভেজালমুক্ত ও মানসম্মত মাংস পান। যদিও এসব সুপারশপে মাংসের দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে, তবুও অনেক ক্রেতা নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য সেই বাড়তি মূল্য দিতে আগ্রহী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাজা মাংসের একটি স্বাভাবিক রং ও গন্ধ থাকে। অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত লাল বা উজ্জ্বল রং, অতিরিক্ত পানি ঝরা বা অস্বাভাবিক নরম ভাব এসব লক্ষণ দেখলে ক্রেতাদের সতর্ক হওয়া উচিত। একইসঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা এবং কঠোর নজরদারি। ভোক্তাদের ঠকিয়ে যারা অল্প সময়ে বেশি লাভ করতে চায়, সেই অসাধু ও লোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাজারে ন্যায্যতা ফিরবে না। পাশাপাশি, সৎ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা এবং মানসম্মত বিক্রয়ব্যবস্থা যেমন সুপারশপগুলোর ভালো চর্চা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

সুস্থ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—উভয়েরই নৈতিক দায়িত্ব। সততা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া কোনো বাজারই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।