জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ‘দি ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস’ (আইটিইটি), বাংলাদেশের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বাদ মাগরিব রাজধানীর উত্তরায় আইটিইটি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটি’র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামানিক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি’র নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
এ আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে সংগঠনের নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান (রবিন), সদস্য সচিব সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামানিক এবং সহ-সদস্য সচিব সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম সাদ্দাম ছিলেন।
আয়োজনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান (রবিন) বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ সবাই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও আত্মত্যাগকে ভিত্তি করে বর্তমান কমিটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে পরস্পরের পরিপূরক উল্লেখ করে আইটিইটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মইদুল ইসলাম (মঈদ) বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার পর দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদের কারণে যে অন্যায়ের সৃষ্টি হয়েছিল, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল তার বিরুদ্ধে সুদৃঢ় প্রতিবাদ।
তিনি আরো বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। আইটিইটি পরিবারের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আইটিইটি’র মহাসচিব প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, “জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, জুলাই হলো প্রতিবাদের ভাষা।” ১৯৫২, ১৯৭১ ও ১৯৯০-এর মতো ২০২৪-এর আন্দোলনও পুঞ্জীভূত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও ইনোভেশনে গুরুত্ব না দিলে এ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে। এ জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা ও পতাকা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪-এর আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজিরবিহীন অংশগ্রহণে এ আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলন দমনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে সর্বক্ষেত্রে ধারণ করে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সভায় আইটিইটি’র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, “আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা এবং আমাদের সবার ভেতরে জুলাইয়ের চেতনা ও স্পিরিট থাকা উচিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এই চেতনা আমরা সবসময় ধরে রাখতে চাই।”
তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোনো ক্ষমতা পাননি, বরং দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই দায়িত্ব সসম্মানে পরবর্তী কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগের কিছুটা প্রতিদান দেওয়া সম্ভব হবে।
পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় আইটিইটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও সংগঠনের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
























