দেশের জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সম্প্রতি জানিয়েছেন, চাঁদপুরে প্রায় সাত থেকে আট হাজার একর বিশাল এলাকজুড়ে একটি আধুনিক এগ্রিভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সমাদৃত এবং এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি স্থায়ীভাবে নিরসন করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণেও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
এগ্রিভোল্টাইক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর মাধ্যমে একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সৌর প্যানেলগুলোর নির্দিষ্ট উচ্চতা ও বিন্যাসের কারণে জমির ফসল সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হয় না, বরং অতিরিক্ত রোদের তাপ থেকে অনেক সময় ফসল সুরক্ষিত থাকে। এর ফলে চাঁদপুরের ওই অঞ্চলের কৃষকরা সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক ও লাভজনক কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেশি গতিশীল করবে।
এই বিশাল আয়তনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর আওতাধীন কৃষি কার্যক্রমে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক জনমিতিক লভ্যাংশকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পথ উন্মুক্ত হবে।




































