দৈনিক মাত্র কুড়ি রুপি মজুরিতে দিনমজুরির কাজ করা এক সাধারণ মানুষ থেকে আজকের ২৫ কোটি রুপির অভিনেতা হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য এক গল্প উপহার দিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা সুরি। জীবনের প্রথমভাগে চরম আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে, যেখানে একবেলা খাবার কিংবা সামান্য একটি নাস্তা কেনার সামর্থ্যও তার ছিল না। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে তামিলনাড়ুর তিরুপুরে কখনো রংমিস্ত্রি আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। সেই সময়ে সাপ্তাহিক চৌদ্দ রুপি আয়ের অর্ধেক নিজের খরচে রেখে বাকি অংশ পরিবারের হাতে তুলে দিতেন এই অভিনেতা, যা তার জীবনের অত্যন্ত কঠিন এক অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করে।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুপ্ত স্বপ্ন বুক বেঁধে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে চেন্নাই শহরে পাড়ি জমান সুরি, শুরু হয় তার জীবনসংগ্রামের নতুন এক পরিক্রমা। অভিনয়ের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তাকে বিভিন্ন ধরনের ছোটখাটো কাজ করতে হয়েছিল, যা তার সংগ্রামী মানসিকতারই পরিচয় দেয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভেনিলা কাবাডি কুজু’ সিনেমায় কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম দর্শকের নজর কাড়েন এবং ‘পারোট্টা সুরি’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পার্শ্বচরিত্র ও কমেডি অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তাকে নানা সময় শুটিং সেটেও অবমূল্যায়ন ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে।
তবে তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০২৩ সালে, যখন খ্যাতনামা পরিচালক ভেট্রি মারানের ‘ভিদুথালাই: পার্ট ১’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো মূল চরিত্রের অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ওই চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় সমালোচক ও দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়, যা তাকে কৌতুক অভিনেতার গণ্ডি পেরিয়ে মূলধারার সফল নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এরপর একে একে ‘ভিদুথালাই: পার্ট ২’, ‘গারুদান’ এবং ‘মামান’-এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। তার অভিনীত একাধিক সিনেমা বক্স অফিসে পঞ্চাশ কোটি রুপির বেশি আয় করে অনন্য বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছে।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় সুরির ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে চলেছে নতুন এক মাইলফলক, যেখানে তার আসন্ন একটি সিনেমার পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া অংকে গিয়ে ঠেকেছে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রখ্যাত নির্মাতা আর. রবিকুমারের নতুন একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি প্রায় ২৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেতে চলেছেন। অভাবের তাড়নায় চা খেয়ে দিন কাটানো সেই তরুণ থেকে শুরু করে আজকের এই বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিক পাওয়া—সব মিলিয়ে সুরির এই উত্থান দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক ও নজরকাড়া এক উপাখ্যান হয়ে রয়েছে।





































