ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

ঝাঁঝালো গন্ধে শ্রেণিকক্ষে অজ্ঞান ২৫ শিক্ষার্থী, অনেকেরই জ্ঞান ফেরেনি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে আকস্মিক অদ্ভুত এক ঘটনার জেরে কমপক্ষে পঁচিশ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ঘটনার দিন সকালের দিকে নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই এই বিপত্তি দেখা দেয় এবং একে একে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আক্রান্তদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল দশটায় যথারীতি পাঠদান শুরুর ঘণ্টাখানেক পর সপ্তম শ্রেণির চারজন ছাত্রী প্রথমে আকস্মিকভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সে সময় প্রাথমিকাবস্থায় তাদের অসুস্থতা তেমন গুরুতর মনে না করায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের জ্ঞানও ফিরে আসে। কিন্তু এর কিছু সময় পর বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অসুস্থ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জানায় যে, ক্লাসরুমের ভেতরে হঠাৎ করেই তীব্র এক ঝাঁঝালো গন্ধের সৃষ্টি হয়েছিল যা মুহূর্তেই অসহনীয় হয়ে ওঠে। ওই কটূগন্ধের প্রভাবেই মূলত শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এই আকস্মিক ঘটনার পর অসুস্থদের মধ্যে মোট বারোজনকে দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাদের নিবিড় চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থীর জ্ঞান তখনো ফেরেনি এবং তাদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে অন্তত বারো ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন এবং তাদের জ্ঞান ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান যে, ঠিক কী কারণে বা কোন উৎস থেকে এই রহস্যময় ঝাঁঝালো গন্ধের সৃষ্টি হলো এবং কেন শিক্ষার্থীরা এভাবে অজ্ঞান হয়ে গেল, সে বিষয়ে তাদের কারোরই পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। এদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উৎকণ্ঠিত অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

মাঝ আকাশেই ফুরিয়ে গেল প্লেনের তেল, এরপর যা হলো

ঝাঁঝালো গন্ধে শ্রেণিকক্ষে অজ্ঞান ২৫ শিক্ষার্থী, অনেকেরই জ্ঞান ফেরেনি

প্রকাশিত ০৯:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে আকস্মিক অদ্ভুত এক ঘটনার জেরে কমপক্ষে পঁচিশ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ঘটনার দিন সকালের দিকে নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই এই বিপত্তি দেখা দেয় এবং একে একে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আক্রান্তদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল দশটায় যথারীতি পাঠদান শুরুর ঘণ্টাখানেক পর সপ্তম শ্রেণির চারজন ছাত্রী প্রথমে আকস্মিকভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সে সময় প্রাথমিকাবস্থায় তাদের অসুস্থতা তেমন গুরুতর মনে না করায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের জ্ঞানও ফিরে আসে। কিন্তু এর কিছু সময় পর বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অসুস্থ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জানায় যে, ক্লাসরুমের ভেতরে হঠাৎ করেই তীব্র এক ঝাঁঝালো গন্ধের সৃষ্টি হয়েছিল যা মুহূর্তেই অসহনীয় হয়ে ওঠে। ওই কটূগন্ধের প্রভাবেই মূলত শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এই আকস্মিক ঘটনার পর অসুস্থদের মধ্যে মোট বারোজনকে দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাদের নিবিড় চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থীর জ্ঞান তখনো ফেরেনি এবং তাদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে অন্তত বারো ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন এবং তাদের জ্ঞান ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান যে, ঠিক কী কারণে বা কোন উৎস থেকে এই রহস্যময় ঝাঁঝালো গন্ধের সৃষ্টি হলো এবং কেন শিক্ষার্থীরা এভাবে অজ্ঞান হয়ে গেল, সে বিষয়ে তাদের কারোরই পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। এদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উৎকণ্ঠিত অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।