চট্টগ্রামে শিশুদের পেটে অভিনব কায়দায় মাদক পাচারচেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির সময় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, অপরাধ চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অমানবিক উপায় বেছে নিচ্ছে, যার শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহজনক আচরণ ও তথ্য পাওয়ার পর শারমিন নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তার সঙ্গে থাকা শিশু দুটির পেটের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় নিষিদ্ধ ইয়াবা বড়ি বহন করা হচ্ছিল। মাদক পাচারের এই ভয়াবহ কৌশল দেখে তদন্তকারী কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান।
অভিযুক্ত নারীর স্বীকারোক্তির সত্যতা যাচাই করতে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে একটার দিকে শিশু দুটিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশু দুটির বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে এক্স-রে করানোর পর তাদের পেটের ভেতরে ইয়াবাসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
চিকিৎসক ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত উপায়ে শিশুদের পেট থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র বা গডফাদার জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে উদ্ধারকৃত শিশু দুটিকে বর্তমানে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।




































