ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় সফর ঘিরে নারী কর্মীদের সরিয়ে রাখার প্রতিবাদে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা আইফেল টাওয়ার সম্প্রতি কর্মী ধর্মঘটের কারণে আকস্মিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত একটি বিশেষ হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর দর্শনার্থীদের ভ্রমণকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দর্শনার্থীদের ওই বিশেষ সফরের সময় টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নারী কর্মীদের তাদের নির্দিষ্ট কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের বিপুল সংখ্যক অনুসারী আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসেন। ওই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কিছু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুশাসনের কথা বিবেচনা করে টাওয়ার কর্তৃপক্ষ নারী কর্মীদের অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কর্তৃপক্ষের এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত সেখানে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে।

কর্মীদের অধিকার রক্ষা ও সমতা বজায় রাখার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করেন, পেশাগত দায়িত্বে নারী ও পুরুষের মাঝে এ ধরনের বিভাজন বা কাউকে নির্দিষ্ট কারণে সরিয়ে রাখা মৌলিক শ্রম অধিকারের পরিপন্থী। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

কর্মচারীদের এই আকস্মিক কর্মবিরতির ফলে ঐতিহাসিক এই দর্শনীয় স্থানটি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। টাওয়ারের মতো একটি বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় পর্যটন খাতের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং দ্রুত আইফেল টাওয়ারের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

বিগ ব্যাশে নাহিদ রানাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি

ধর্মীয় সফর ঘিরে নারী কর্মীদের সরিয়ে রাখার প্রতিবাদে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

প্রকাশিত ০৯:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা আইফেল টাওয়ার সম্প্রতি কর্মী ধর্মঘটের কারণে আকস্মিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত একটি বিশেষ হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর দর্শনার্থীদের ভ্রমণকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দর্শনার্থীদের ওই বিশেষ সফরের সময় টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নারী কর্মীদের তাদের নির্দিষ্ট কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের বিপুল সংখ্যক অনুসারী আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসেন। ওই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কিছু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুশাসনের কথা বিবেচনা করে টাওয়ার কর্তৃপক্ষ নারী কর্মীদের অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কর্তৃপক্ষের এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত সেখানে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে।

কর্মীদের অধিকার রক্ষা ও সমতা বজায় রাখার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করেন, পেশাগত দায়িত্বে নারী ও পুরুষের মাঝে এ ধরনের বিভাজন বা কাউকে নির্দিষ্ট কারণে সরিয়ে রাখা মৌলিক শ্রম অধিকারের পরিপন্থী। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

কর্মচারীদের এই আকস্মিক কর্মবিরতির ফলে ঐতিহাসিক এই দর্শনীয় স্থানটি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। টাওয়ারের মতো একটি বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় পর্যটন খাতের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং দ্রুত আইফেল টাওয়ারের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।