ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাতীয় নিরাপত্তা-আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে হতে হবে Logo প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ‘অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন’ নয়: জবি শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দলের উন্নতিতে আশাবাদী হয়ে উঠছেন মরিনিয়ো Logo বাবা হারানোর শোক সামলে জিপিএ ৫ লিজার, রিয়া হতে চান ব্যাংকার Logo সাজেকে ফের অবরোধ শুরু, তীব্র খাদ্য ও মানবিক সংকট Logo টানা তিন দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের স্কুল-কলেজ Logo ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন? Logo মিরপুরে হামলা-সংঘর্ষের মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার, গ্রেপ্তার ২২ Logo গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে আগুন, আহত বিজিবি সদস্য

বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি নিজের ওপর ঘটা এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান। তিনি জানান যে উৎসবের প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ডিম ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারা হয় এবং তার মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জন্য মূলত রাজনৈতিক কারণকে দায়ী করেছেন এই অভিনেত্রী। বাঁধনের অভিযোগ, গত বছর সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নিজেকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার সেই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই ইতালিতে তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে কটূক্তি করে এবং হেনস্তা করে।

নিজের ওপর হামলার চেয়েও পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঁধন। তিনি জানান, তার ভাইয়ের স্ত্রী এবং তিন বছরের নিষ্পাপ শিশুসন্তানের সঙ্গে যে ধরনের অসদাচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বেদনাদায়ক। তবে এত কিছুর পরও তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি বলে দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন। দেশ ও বিদেশ থেকে বহু মানুষ তাকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে যে সাহস ও সমর্থন যুগিয়েছেন, তার জন্য তিনি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় ইতালীয় পুলিশ তাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আইনি সহায়তার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। বাঁধন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনার যথাযথ আইনি পদক্ষেপ বা মামলা সম্পন্ন না করে ইতালি ছাড়বেন না। হামলাকারীদের একটি অংশকে তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছেন এবং সব ধরনের প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

জনপ্রিয়

জাতীয় নিরাপত্তা-আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে হতে হবে

বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’

প্রকাশিত ০৭:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি নিজের ওপর ঘটা এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান। তিনি জানান যে উৎসবের প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ডিম ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারা হয় এবং তার মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জন্য মূলত রাজনৈতিক কারণকে দায়ী করেছেন এই অভিনেত্রী। বাঁধনের অভিযোগ, গত বছর সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নিজেকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার সেই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই ইতালিতে তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে কটূক্তি করে এবং হেনস্তা করে।

নিজের ওপর হামলার চেয়েও পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঁধন। তিনি জানান, তার ভাইয়ের স্ত্রী এবং তিন বছরের নিষ্পাপ শিশুসন্তানের সঙ্গে যে ধরনের অসদাচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বেদনাদায়ক। তবে এত কিছুর পরও তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি বলে দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন। দেশ ও বিদেশ থেকে বহু মানুষ তাকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে যে সাহস ও সমর্থন যুগিয়েছেন, তার জন্য তিনি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় ইতালীয় পুলিশ তাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আইনি সহায়তার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। বাঁধন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনার যথাযথ আইনি পদক্ষেপ বা মামলা সম্পন্ন না করে ইতালি ছাড়বেন না। হামলাকারীদের একটি অংশকে তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছেন এবং সব ধরনের প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।