দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রুমি আক্তার নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিরামপুর পৌরশহরের জনতা ব্যাংক মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রুমি আক্তারের স্বামী মাহমুদুল হাসান সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় একটি বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিরামপুর শহরের জনতা ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়ে তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগামী ট্রাক রুমি আক্তারকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রুমির স্বামী মাহমুদুল হাসান ছাড়াও তাদের দুই শিশুসন্তান গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। নিহত গৃহবধূর স্বজনরা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী মাহমুদুল এক মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা তাদের সাজানো সংসার মুহূর্তেই লন্ডভণ্ড করে দিল।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম আল মামুন জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি না থাকায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাত বছরের শিশু আব্দুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজন অর্থাৎ স্বামী মাহমুদুল ও এগারো মাসের কন্যাসন্তান মারিয়া মাহরীন বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




































