সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁওগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ওঠার পর আকস্মিক এক বিড়ম্বনার শিকার হন সৌদিপ্রবাসী মোজাম্মেল হক। দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দশমাইল এলাকায় বাসটি যাত্রাবিরতি নেয়। সেই সময়ে বাসের সুপারভাইজারকে বিষয়টি অবহিত করেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন ওই প্রবাসী যাত্রী। কিন্তু তিনি প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে এসে দেখেন তাকে ফেলে রেখেই বাসটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েন ওই প্রবাসী, কারণ তার চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বিদেশ থেকে কষ্টার্জিত আয়ে কেনা বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ লাগেজটি বাসের ভেতরেই রয়ে গিয়েছিল। তার দুটি পাসপোর্ট, বিমান ভ্রমণের টিকিট এবং মূল্যবান মালামালপূর্ণ লাগেজ হারানোর আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গভীর রাতে অচেনা এক জায়গায় সব হারিয়ে কী করবেন তা বুঝতে না পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল মোড় রুহুল আমিন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রবাসী যাত্রীর কাছ থেকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে শুনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানাকে বিষয়টি অবগত করা হয় এবং পুরো উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয় করেন ৯৯৯-এর ডিসপাচার এসআই আব্দুল মান্নান। এই জরুরি সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বীরগঞ্জ থানার একটি পুলিশের টহল দল দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং ওই বাসটিকে আটকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ায়।
পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বীরগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনার মোড় এলাকা থেকে চলন্ত অবস্থায় হানিফ পরিবহনের বাসটিকে থামানো সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে বাসটির ভেতর থেকে প্রবাসীর দুটি পাসপোর্ট, লাগেজ এবং বিদেশ থেকে আনা অন্যান্য সব মালামাল নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর মোজাম্মেল হক থানায় উপস্থিত হলে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তার হারানো সমস্ত মালামাল ও নথিপত্র যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে তার হাতে বুঝিয়ে দেয়।


































