আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের মধ্যকার অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান যে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ইউপি ভোটের তারিখগুলোকে চূড়ান্ত নয় বরং সম্ভাব্য সূচি হিসেবে দেখা উচিত। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ইসি তাদের নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, সেটিকে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা বলেই মনে করছে প্রশাসন।
এর আগে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন ধাপে ১২ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল। তবে ইসির এই ঘোষণার ঠিক পরদিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন যে, ভোটের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এই দুই ধরনের বক্তব্যের ফলে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কমিশনের সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকের বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল বা সূচি নির্ধারিত হবে। মূলত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই স্থানীয় নির্বাচনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সাজানো হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এর পাশাপাশি, নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সম্প্রতি মিছিল বের করার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ওই দলের কিছু নেতাকর্মী জুমার নামাজ আদায়ের নাম করে একত্রিত হয়ে অল্প লোক নিয়ে দিনের বেলায় আকস্মিক অপতৎপরতা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা ঘটার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়তো ওই নির্দিষ্ট সময়ে ও এলাকায় এমন পরিস্থিতি আন্দাজ করতে পারেনি, তবে একে সরাসরি গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলা যায় না।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, অটোরিকশাগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে ইতিমধ্যে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং অবৈধ চার্জিং পয়েন্টগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ চলমান রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে সরকার রাতারাতি হুট করে কাউকে বেকার করে দিতে চায় না, বরং ধীরে ধীরে নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। সামগ্রिकভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নীতিমালার বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।




































