ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যবিপ্রবির ডিরেক্টরি অ্যাপে যুক্ত হলো ‘অফলাইন ডায়েরি’ Logo অভিষেক শর্মার বিশ্বরেকর্ডের পর আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত Logo সিকৃবিতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ Logo কুষ্টিয়ায় সংগীতশিল্পী সালমার বাবার দাফন সম্পন্ন Logo ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে বিশ্বাস করার মতো ভিত্তি পেয়েছে জাতিসংঘ Logo আগামী ৬ জুনের আগে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হবে: ইসি Logo বিশ্বমানের জুলকান ইনডোর এরিনা: দেশীয় ফাইটারদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম Logo খালেদের ৮ উইকেট, ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের বড় জয় Logo হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব Logo অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে পর্তুগাল-ওয়েলস

বিনোদনের নামে সিনেমায় তামাকের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে নাটক, সিনেমা, ওটিটিতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন এবং প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধহয়েছে। কিন্তু, ২০২৬ সালের ১২টি সিনেমায় ৭৫১টি ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্যপ্রদর্শন করা হয়েছে, তন্মধ্যে ৬টি সিনেমায় কৌশলে তামাক পণ্যের ব্রান্ড দেখানোহয়েছে, যা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০০৫ এর সুষ্পষ্টলঙ্ঘণ।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে‘মানস’ আয়োজিত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন বাস্তবায়নে করণীয় : প্রেক্ষিত নাটক, চলচ্চিত্র,ওটিটি প্ল্যাটফর্ম” শীর্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় উক্ত তথ্যতুলে ধরা হয়। সভায় বক্তারা বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবংওটিটিসহ ইমার্জিং মিডিয়ার জন্য আলাদা গাইডলাইন প্রণয়ন এবং সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ,গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সভাপতিত্ব করেন ‘মানস’ এর সভাপতিবীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। এতে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিতছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহাদী আজাদ মাসুম ও সাধারণসম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, জেষ্ঠ সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটিসঅব সোসাইটি (ডাস) এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যরাখেন মানস এর কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম রিনা ও সঞ্চালনা করেন সিনিয়র প্রজেক্টএন্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।

ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ধূমপান ও তামাক ব্যবহার ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ প্রাণঘাতি রোগ এবং বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। তরুণদের তামাকের নেশায় আকৃষ্ট করতেতামাক কোম্পানিগুলো নানা বিপণন অপকৌশল বেছে নিয়েছে। সিনেমা, নাটক ও ওয়েবসিরিজেওনায়ক, নায়িকা দ্বারা ধূমপানকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১২টি সিনেমাপর্যবেক্ষণে ৬টিতে ব্রান্ড প্রচারণা ও ৭৫১বার ধূমপান-তামাক সেবনের দৃশ্য পাওয়াগেছে। এর মধ্যে রাক্ষস’ এ ১৯২ বার, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ এ ১৬৫বার, ‘মালিক’ এ ৯৮ বার, ‘রকস্টার’ এ ৯৫ বার, ‘বনলতা সেন’ এ ৭১ বার, ‘বনলতাএক্সপ্রেস’ এ ৬৪ বার ধূমপান ও তামাক সেবন দেখানো হয়েছে। তরুণদের সুরক্ষায় এসবপ্রলোভনমূলক প্রচারণা বন্ধে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিনোদনমাধ্যমে কঠোরভাবেবাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে জানান তিনি।

মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কিশোর-তরুণদের মধ্যে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে, বিনোদন ও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে তামাকের প্রচারণা উদ্বেগজনক! এজন্য সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনবাস্তবায়নে সার্টিফিকেশন বোর্ড, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকরতে হবে। তিনি আরো বলেন, তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ৪০ হাজার কোটি, বিপরীতেস্বাস্থ্য ব্যয় ৮৭ হাজার কোটি। তাই রাজস্বের চাইতে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকে গুরুত্বদিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মাহাদী আজাদ মাসুম বলেন, প্রিন্স সিনেমায় ১৬৫বার ধূমপান ও তামাকের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, এটি কীভাবে সেন্সর ছাড় পেল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের দৃশ্য পরোক্ষভাবেধূমপানকে আকর্ষণীয় ও স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে, বিশেষ করে যখন জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাদেরমাধ্যমে তা দেখানো হয়। নিখিল ভদ্র বলেন, সিনেমা, নাটক ও অন্যান্যবিনোদন মাধ্যমে সিগারেট, ই-সিগারেটের দৃশ্য প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রমঅব্যাহত রাখতে হবে। বিনিয়োগের নামে দেশে নিকোটিন পাউচের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগঅত্যন্ত উদ্বেগজনক জানান তিনি।

বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোর, তরুণদের তামাক ওনিকোটিন পণ্যের নেশা থেকে বিরত রাখতে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল প্রতিহত এবং তামাকপণ্যের আইন বিরোধী প্রচার-প্রচারণা ও প্রলুব্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধে শাস্তি নিশ্চিত আনতেহবে। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ প্রজন্ম নিশ্চিত এবং তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু ও সামগ্রীক ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আইনের বাস্তবায়ন জরুরি। গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারও তামাক ও নিকোটিন পণ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

জনপ্রিয়

যবিপ্রবির ডিরেক্টরি অ্যাপে যুক্ত হলো ‘অফলাইন ডায়েরি’

বিনোদনের নামে সিনেমায় তামাকের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

প্রকাশিত ১১:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে নাটক, সিনেমা, ওটিটিতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন এবং প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধহয়েছে। কিন্তু, ২০২৬ সালের ১২টি সিনেমায় ৭৫১টি ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্যপ্রদর্শন করা হয়েছে, তন্মধ্যে ৬টি সিনেমায় কৌশলে তামাক পণ্যের ব্রান্ড দেখানোহয়েছে, যা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০০৫ এর সুষ্পষ্টলঙ্ঘণ।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে‘মানস’ আয়োজিত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন বাস্তবায়নে করণীয় : প্রেক্ষিত নাটক, চলচ্চিত্র,ওটিটি প্ল্যাটফর্ম” শীর্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় উক্ত তথ্যতুলে ধরা হয়। সভায় বক্তারা বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবংওটিটিসহ ইমার্জিং মিডিয়ার জন্য আলাদা গাইডলাইন প্রণয়ন এবং সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ,গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সভাপতিত্ব করেন ‘মানস’ এর সভাপতিবীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। এতে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিতছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহাদী আজাদ মাসুম ও সাধারণসম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, জেষ্ঠ সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিটিসঅব সোসাইটি (ডাস) এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যরাখেন মানস এর কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম রিনা ও সঞ্চালনা করেন সিনিয়র প্রজেক্টএন্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।

ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ধূমপান ও তামাক ব্যবহার ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ প্রাণঘাতি রোগ এবং বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। তরুণদের তামাকের নেশায় আকৃষ্ট করতেতামাক কোম্পানিগুলো নানা বিপণন অপকৌশল বেছে নিয়েছে। সিনেমা, নাটক ও ওয়েবসিরিজেওনায়ক, নায়িকা দ্বারা ধূমপানকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১২টি সিনেমাপর্যবেক্ষণে ৬টিতে ব্রান্ড প্রচারণা ও ৭৫১বার ধূমপান-তামাক সেবনের দৃশ্য পাওয়াগেছে। এর মধ্যে রাক্ষস’ এ ১৯২ বার, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ এ ১৬৫বার, ‘মালিক’ এ ৯৮ বার, ‘রকস্টার’ এ ৯৫ বার, ‘বনলতা সেন’ এ ৭১ বার, ‘বনলতাএক্সপ্রেস’ এ ৬৪ বার ধূমপান ও তামাক সেবন দেখানো হয়েছে। তরুণদের সুরক্ষায় এসবপ্রলোভনমূলক প্রচারণা বন্ধে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিনোদনমাধ্যমে কঠোরভাবেবাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে জানান তিনি।

মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কিশোর-তরুণদের মধ্যে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে, বিনোদন ও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে তামাকের প্রচারণা উদ্বেগজনক! এজন্য সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনবাস্তবায়নে সার্টিফিকেশন বোর্ড, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকরতে হবে। তিনি আরো বলেন, তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ৪০ হাজার কোটি, বিপরীতেস্বাস্থ্য ব্যয় ৮৭ হাজার কোটি। তাই রাজস্বের চাইতে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকে গুরুত্বদিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মাহাদী আজাদ মাসুম বলেন, প্রিন্স সিনেমায় ১৬৫বার ধূমপান ও তামাকের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, এটি কীভাবে সেন্সর ছাড় পেল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের দৃশ্য পরোক্ষভাবেধূমপানকে আকর্ষণীয় ও স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে, বিশেষ করে যখন জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাদেরমাধ্যমে তা দেখানো হয়। নিখিল ভদ্র বলেন, সিনেমা, নাটক ও অন্যান্যবিনোদন মাধ্যমে সিগারেট, ই-সিগারেটের দৃশ্য প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রমঅব্যাহত রাখতে হবে। বিনিয়োগের নামে দেশে নিকোটিন পাউচের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগঅত্যন্ত উদ্বেগজনক জানান তিনি।

বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোর, তরুণদের তামাক ওনিকোটিন পণ্যের নেশা থেকে বিরত রাখতে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল প্রতিহত এবং তামাকপণ্যের আইন বিরোধী প্রচার-প্রচারণা ও প্রলুব্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধে শাস্তি নিশ্চিত আনতেহবে। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ প্রজন্ম নিশ্চিত এবং তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু ও সামগ্রীক ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আইনের বাস্তবায়ন জরুরি। গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারও তামাক ও নিকোটিন পণ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।