রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করে নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার মধ্যে সম্প্রতি একদিনেই নগরীর প্রায় সাতটি ভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরক ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাতের বিভিন্ন সময়ে এসব বিস্ফোরণ ঘটে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় এবং জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, কেবল ককটেল বিস্ফোরণই নয়, বরং নাশকতাকারীরা প্রকাশ্য রাজপথে যানবাহনকে লক্ষ্য করেও হামলা চালায়। বিশেষ করে রাজধানীর একটি ব্যস্ত থানার ঠিক সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চরম ভাবিয়ে তুলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ করেই দুর্বৃত্তরা বাসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়, যা দেখে মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের লোকজনের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি ও ত্রাসের সৃষ্টি হয়।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাসের আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে এ ধরনের আকস্মিক ও ধংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নাশকতার পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অপরাধীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।


























