বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং এর ফলে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, দেশজুড়ে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। চিকিৎসকদের বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্ষাকাল ও এর পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং চিকিৎসকরা দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আসায় তাদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলেও এখন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন অভিযান জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। একইসঙ্গে ঘরের আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমতে না পারে, সে বিষয়ে প্রতিটি নাগরিককে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামূহিক প্রচেষ্টা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা ছাড়া এই মারাত্মক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




































