পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সিকদার ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড নামের এই বিমা কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা নির্ধারিত খাতের বাইরে অন্য উদ্দেশ্যে খরচ করেছে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে তহবিল তছরুপের এই বিষয়টি সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসে।
তদন্তে দেখা গেছে, বিমা কোম্পানিটি আইপিওProspectus-এ উল্লেখিত প্রতিশ্রুত লক্ষ্য ও ক্ষেত্র অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করেনি। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত এই তহবিলের সুরক্ষায় বিমা খাতের নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ তা বারবার লঙ্ঘন করেছে। কোম্পানির এমন দায়িত্বহীন আচরণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তহবিল ব্যবহারের এই গুরুতর শর্তভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পুরো পর্ষদের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অনিয়মের সাহস না পায়, সেজন্য এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারের মাধ্যমে জনগণের অর্থ সংগ্রহ করে তা সঠিক খাতে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সিকদার ইন্স্যুরেন্সের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিমা ও পুঁজিবাজারের তদারকি আরও জোরদার করার তাগিদ অনুভব করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের আর্থিক অস্বচ্ছতা রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সতর্ক ও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।



































