ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ইরান Logo চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিচ্ছিল ছোট্ট মেয়ে Logo এফবিআইয়ের বিশাল তথ্যভাণ্ডার হ্যাক, নিরাপত্তার পাহারাদারই এখন নিরাপত্তাহীন Logo বনানীর আহমেদ টাওয়ারে আগুন Logo বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo চুরির অভিযোগ: তবুও বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসার দৃশ্য মানুষকে কাঁদিয়েছে Logo পঞ্চম দিনেও অচল চুয়েট, নতুন ভিসিকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড Logo মানিকগঞ্জে উল্টো পথে আসা বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত Logo এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে জালিয়াতি: ইতালির শীর্ষ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব Logo ডায়াবেটিস হলে ফল খাবেন, না খাবেন না

এফবিআইয়ের বিশাল তথ্যভাণ্ডার হ্যাক, নিরাপত্তার পাহারাদারই এখন নিরাপত্তাহীন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। শাইনি হান্টার্স নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিশাল নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা গোপন পরিচয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হ্যাক হওয়া তথ্যের মধ্যে হাজার হাজার এজেন্টের পরিচয়, ব্যক্তিগত ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর এবং অত্যন্ত গোপনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। এমনকি সংস্থার বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বিশেষ এজেন্টের রক্ত পরীক্ষার ফলসহ নানা শারীরিক জটিলতার তথ্যও হ্যাকারদের কবলে পড়েছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পক্ষ থেকে এই তথ্যের কিছু নমুনা যাচাই করে সেগুলোর সত্যতা মিলেছে। সাইবার অপরাধীরা হুমকি দিয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে এই সমস্ত গোপন নথি ও ডেটাবেস উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

চুরি যাওয়া এই ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে শত্রুপক্ষের হ্যাকার ও অপরাধী চক্রগুলো তা অপব্যবহার করার সুযোগ পাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা তৈরি, প্রতারণা কিংবা এজেন্টদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হয়রানি করার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এছাড়া অনলাইনে সক্রিয় বিভিন্ন অপরাধী চক্র ভুয়া তথ্য দিয়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে কোনো এজেন্টের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহিংস ঘটনাও ঘটাতে পারে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রভাবিত বা নিয়োগ করার চেষ্টা করতে পারে বলেও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন নগ্ন নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অপরাধী গোষ্ঠীটি এবার কোনো আর্থিক দাবি না জানিয়ে মূলত এফবিআইয়ের প্রকাশিত একটি পরামর্শমূলক নোট প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কীভাবে এই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙল তা উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে। তবে এই আকস্মিক ও বড় ধরনের সাইবার হামলার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জনপ্রিয়

নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ইরান

এফবিআইয়ের বিশাল তথ্যভাণ্ডার হ্যাক, নিরাপত্তার পাহারাদারই এখন নিরাপত্তাহীন

প্রকাশিত ০৭:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। শাইনি হান্টার্স নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিশাল নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা গোপন পরিচয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হ্যাক হওয়া তথ্যের মধ্যে হাজার হাজার এজেন্টের পরিচয়, ব্যক্তিগত ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর এবং অত্যন্ত গোপনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। এমনকি সংস্থার বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বিশেষ এজেন্টের রক্ত পরীক্ষার ফলসহ নানা শারীরিক জটিলতার তথ্যও হ্যাকারদের কবলে পড়েছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পক্ষ থেকে এই তথ্যের কিছু নমুনা যাচাই করে সেগুলোর সত্যতা মিলেছে। সাইবার অপরাধীরা হুমকি দিয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে এই সমস্ত গোপন নথি ও ডেটাবেস উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

চুরি যাওয়া এই ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে শত্রুপক্ষের হ্যাকার ও অপরাধী চক্রগুলো তা অপব্যবহার করার সুযোগ পাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা তৈরি, প্রতারণা কিংবা এজেন্টদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হয়রানি করার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এছাড়া অনলাইনে সক্রিয় বিভিন্ন অপরাধী চক্র ভুয়া তথ্য দিয়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে কোনো এজেন্টের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহিংস ঘটনাও ঘটাতে পারে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রভাবিত বা নিয়োগ করার চেষ্টা করতে পারে বলেও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন নগ্ন নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অপরাধী গোষ্ঠীটি এবার কোনো আর্থিক দাবি না জানিয়ে মূলত এফবিআইয়ের প্রকাশিত একটি পরামর্শমূলক নোট প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কীভাবে এই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙল তা উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে। তবে এই আকস্মিক ও বড় ধরনের সাইবার হামলার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।